মামলা তদন্তে গাফিলতি ও অবহেলা করায় উখিয়া থানার সাবেক এসআই ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকীর আদালতে উখিয়া থানার একটি মামলার শুনানিকালে বিচারক এ নির্দেশ দেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ও প্রস্তুতি গ্রহণের অভিযোগে আসামি মো. মনিরের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই মো. ফারুক হোসেনকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করে এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর অভিযোগ শুনানিকালে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও যে দুইজন সন্দিগ্ধ আসামিকে তদন্তকালে বিচারে সোপর্দ করা হয় তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীগণ ‘দি কোড অভ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’ এর ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছেও প্রকাশ করেননি।
তাছাড়া সাক্ষী আলহাজ্ব মো. শাহজাহানের রেকর্ডকৃত জবানবন্দিতে ‘আমার নাম মো. শামসুল আলম’ মর্মে উল্লেখ করা হয়।
আদালত অভিযোগপত্রে ও তদন্তে আরো অনেক অসঙ্গতি লক্ষ্য করে এজাহারনামীয় একজন আসামি ছাড়া বাকি আসামিদেরকে অব্যাহতি প্রদান করে।
পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করে যে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে চরম অবহেলা ও গাফিলতি প্রদর্শন করেছেন। তিনি কেন এবং কীভাবে সন্দিদ্ধ দুইজন আসামিকে সেন্ট আপ করেছেন তা আদালতের নিকট বোধগম্য হয় না।
তদন্তকারী কর্মকর্তার এ ধরনের কার্যক্রম কাম্য নয়। তার এ ধরনের অবহেলা, ত্রুটি ও বিচ্যুতির বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসা আবশ্যক হয়।
কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এ আদেশের কপি ইন্সপেক্টর জেনারেল অভ পুলিশসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান এপিপি মাহবুব।