উখিয়ায় অপহরণকারী চক্রের ৯ সদস্য আটক

তিন কিশোর উদ্ধার, পাঁচ রোহিঙ্গাসহ আরও এক বাংলাদেশি কিশোর নিখোঁজ

উখিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ৯ জুলাই, ২০২৩ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সংলগ্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী ও অপহরণকারী চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই সঙ্গে অপহরণকারীদের গোপন আস্তানা থেকে তিন রোহিঙ্গা কিশোরকে উদ্ধার করেছে।

উখিয়া থেকে অপহৃত এক বাংলাদেশি কিশোরসহ আরো পাঁচ রোহিঙ্গা কিশোর এখনো নিখোঁজ রয়েছে। উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ জানান, গত ২ জুলাই বেলা ১১টার দিকে গাছ থেকে সুপারি পাড়া ও গাড়ি লোডিংয়ে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তিন কিশোরকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হল উখিয়ার তাজনিমারখোলা ১৩ ক্যাম্পের সোনা মিয়ার কিশোর পুত্র মোহাম্মদ হাসান (১৪), মো. তাহেরের পুত্র আনিসুর রহমান (১৩) ও আবদুল আমিনের পুত্র নুর আলম (১৫)। একই অপরাধী চক্র একই কায়দায় গত ৬ জুলাই উখিয়ার তাজনিমারখোলা ক্যাম্প১৩ ও আশপাশের এলাকা থেকে আরো ৬ কিশোরকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারা হল বাংলাদেশি শমসু আলমের পুত্র রিমন (১৫); রোহিঙ্গা নাগরিক ইলিয়াসের পুত্র সৈয়দ নূর (১২), নুর মোহাম্মদের ছেলে সৈয়দুল মোস্তফা (১১), জমির হোসেনের ছেলে ওসমান (১৩), বশির আহাম্মদের পুত্র হারেছ (১২) এবং ক্যাম্প ১৯ এর মোহাম্মদুল্লার পুত্র কামাল মোস্তফা (১৪)। জানা যায়, ৮ এপিবিএন এর এএসপি মো. ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে গতকাল অপহৃত তিন রোহিঙ্গা কিশোর সৈয়দ নুর, মো. হাসান ও আনিসুর রহমানকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারপ্রাপ্ত তিন কিশোরই উখিয়ার তাজনিমারখোলা ১৩ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা।

৮ এপিবিএন এর অধিনায়ক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মো. আমির জাফর জানান, অপহৃতদের উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে একইসাথে উখিয়ার কুতুপালং এবং টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরি এলাকার বিভিন্ন দুর্গম স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে অপহরণ চক্রের ৯ সদস্য টেকনাফের নুরুল আমিন (৩২), মো. ফয়সাল (১৮), শফিকুল (১৮), সাইফুল ইসলাম (২২), মিজানুর রহমান (১৮), আব্দুর রহমান (১৭), মোহাম্মদ পারভেজ (১৪) এবং চক্রের রোহিঙ্গা সদস্য মো. মোবারক (১৭) ও মো. আমিনকে (১৭) আটক করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুপারির কাজসহ অন্যকোনো কাজের প্রলোভনে ফেলে নিয়ে যায়। পরে বিশেষ করে টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরি এলাকায় সুপারি বাগানের ভিতরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে তাদের অভিভাবকদের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণ দিতে বিলম্ব হলে অপহৃতদের নৌকাযোগে মিয়ানমারের রাখাইনের আকিয়াবের শামিলা এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সেখানে অপহৃতদের পৈশাচিক নির্যাতন করে অভিভাবকদের নিকট থেকে বড় অংকের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। অনেক সময় এই অপরাধ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তৃত তদন্তের মাধ্যমে অপহৃত অন্যান্য ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ৮ এপিবিএন এর অধিনায়ক মো. আমির জাফর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমি. নুডল্‌স নিয়ে এলো কোরিয়ান কিমচি রামেন নুডল্‌স
পরবর্তী নিবন্ধচন্দনাইশ উপজেলা আ. লীগের বর্ধিত সভা