ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে হাসি- ঈদ মানে ছোটো বড়ো ভালোবাসাবাসি

| বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ at ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

ঈদ হোক রঙিন

সাহাদাত হোসাইন সাহেদ

স্বপ্ন দেখার শক্তি আর বাস্তবে তা অর্জনের মনোবল হারায়নি বাংলাদেশ। শিশুদের আনমনা চিৎকার, ঈদ আসছে ঈদ। স্মৃতিতে আঠা বেধে আছে ঈদ আনন্দ। কী মজা, দল বেধে বৈষম্যতা ঠেলে এলাকা চষে বেড়ানোর সেই পুরোনো মধুমাখা স্মৃতি। আমার শৈশব, কৈশোর, আমার পূর্ণতার সকল বৈভব। বর্তমান সময় যেন তা শুধুই স্মৃতি। জঠরে জট পেকে থেমে থেমে মুচকি হাসে। শান্তি নেই জনতার মনে, গৃহ থেকে গৃহালয়ে। অনিভিপ্রেত কিছু সময় ক্ষণ কালের দুঃসহ পাঠ ছিটকে দিয়েছে ভালোবাসা, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মাত্রা। ১৮ কোটি লোকের দেশের কর্মে ও মেধাবীদের মেধায় পূর্ণতায় এক ঝলক বাংলাদেশ, তাও ছিটকে পড়েছে বাহিত অস্বাভাবিক সময়ের কারণে। সময় এগিয়েছে, যুগের কাধে কাধ মিলিয়ে গড়তে হবে যুগোপযোগী সভ্য বাঙলা। যেখানে থাকবে প্রেম সদিচ্ছা ও সৌমত্য। থাকবে দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। ঈদকে বরণ করুন সুষম সমপ্রীতির বাঁধনে। ঈদ হোক রঙিন। আমরা সাধ্যের মাঝে ঈদ আনন্দে হাসবো খেলবো, সেমাই বিলাবো জনে জনে।

আম্মাকে ছাড়া আমার বুকে জমাটবাঁধা কষ্টের দ্বিতীয় ঈদ

নবাব হোসেন মুন্না

সিকি পয়সার ঈদি, লক্ষ টাকার খুশী ছিলো বাল্যকালে আমার ঈদ। এইবারে ঈদ আমার বুকে জমাটবাঁধা কষ্টের ঈদ ২৩ মে ২০২৪ আম্মাকে চিরকালের জন্য হারালাম, আম্মাকে ছাড়া দ্বিতীয় ঈদ পালন করবো ভাবতে কষ্ট হচ্ছে তার আগে ১ ডিসেম্বর ২০২১ সালে ছোট ভাইকে হারালাম সৃষ্টিকর্তার খেলা বুঝা বড় দায়। ছোটবেলায় বিশ রোজার পর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা থাকতাম ৩০ রোজা কবে আসবে, চাঁদ উঠবে। দোয়া করতাম যেন তাড়াতাড়ি ঈদ এসে যায়, সময় পেরিয়ে যায়, অনেক সময় ২৯ রোজায় চাঁদ ওঠা একটা অনিশ্চয়তার ব্যাপার ছিলো, আর তাই মজার। চাঁদ উঠেছে এই খবরে ইফতার করতে পারতাম না সেদিন, পানি আর দুই একটা জিনিস মুখে দিয়েই দৌড়। মা পিছন থেকে বলত, এই দাঁড়া, এই দাঁড়া। কে শোনে কার কথা? আমাদের পাড়ার বড় ভাইরা গান বাজাতো সুন্দর সুন্দর গেইট বানিয়ে বেলুন, ঈদ মোবারকের কার্ড লাগিয়ে দিতেন, অনেক জায়গায় রং তুলি দিয়ে ঈদ মোবারকের চিত্র অংকন করা হতো, সেখানে বড়ভাইরা আমাকে নিয়ে আসতেন তুলি দিয়ে ঈদে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপশন বানিয়ে দিতাম, সকলে আমার প্রশংসা করতেন। কী যে খুশী লাগতো, মসজিদে মসজিদে আল্লাহু আল্লাহু ধ্বনি,শুনা যেত অসাধারাণ সেই সুর, কিছুক্ষণ পর পর হুজুরের জানিয়ে দেয়া ঈদের জামাতের সময়। সবার বাসা থেকে আসত রান্নার সুগন্ধি। ঈদের দিন মা গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরিয়ে দিতেন, বাবার সাথে নামাজ পড়তে যেতাম, নামাজ শেষে চাচা জেঠা আত্মীয় স্বজনের বাসায় গিয়ে সালাম করে ঈদি নিতাম, যখন কেউ ঈদি দিতে ভুলে যেতেন বারবার সালাম করতাম সিকি পয়সার ঈদি লক্ষ টাকার খুশী ছিলো, এখনকার ছেলে মেয়েদের হাজার টাকা ঈদি দিলে মনে হয় সেই আনন্দ পায় না, যেটা আমরা পাইতাম। ঈদি সবগুলো জমিয়ে মায়ের কাছে রাখতাম, ঈদিগুলো মা কী করতেন সেই কথা আর মনে থাকতো না। এখন বড় হয়েছি সংসার হয়েছে, ভাইবোনদের আলাদা আলাদা সংসার হয়েছেন আমার দায়িত্ব বেড়েছে, আর বাবা মার দায়িত্ব কমেছেন তারা দিনের দিন ছোট হচ্ছেন। তবুও মাঝে মাঝে খুব ছোট হতে ইচ্ছা করে আবারো। কিন্তু তা কি সম্ভব? হয়তো একদিন আমিও মা বাবার মতো ছোট হয়ে যাবে, সংসারে হাল ছেলেরা ধরবেন। এখনো ঈদে অনেক আনন্দ আছে, আর সেইটা হচ্ছে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের? কিন্তু ছোট বেলার সেই আনন্দটা আর নেই। তবে সেই জন্য আমি দুঃখ করি না। এইটুকুর মধ্যেও মাঝে মাঝে ছোট হয়ে যাই। আলহামদুলিল্লাহ। মৃত্যু আগ পযন্ত প্রতি বছর ঈদ আসবে। আল্লার কাছে শুকরিয়া যতদিন বাঁচি যেন দায়িত্ব পালন করে যেতে পারি। পরিশেষে সমগ্র মুসলিম ভাইবোনসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের সবাইকে জানাচ্ছি ঈদের শুভেচ্ছা।

আত্মিক শুদ্ধি ও আনন্দের দিন

মিতা পোদ্দার

ঈদ মানেই হিংসাবিদ্বেষ ভুলে সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, যা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা দূর করে। পবিত্র রমজান মাসের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে খুশির বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব ঘিরে মুমিন হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের ঢেউ। ঈদ মানে আত্মত্যাগের মহিমায় নিজেকে শানিত করা। ধনীগরিব এক কাতারে দাঁড়ানো, একই আনন্দে হারিয়ে সাম্যের নিদর্শন স্থাপনের নামই ঈদুল ফিতর। ঈদ তাই কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সর্বজনীন আনন্দের দিন। ঈদের মূল শিক্ষা হলো সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এই দিনে ধনীগরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে শামিল হয়। জাকাত ও ফিতরা প্রদান করার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো হয়, যা আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। ঈদ শুধু ব্যক্তিগত আনন্দ নয়, এটি সম্মিলিতভাবে উদযাপনের আনন্দ, যেখানে প্রত্যেক মানুষ একে অপরের সুখদুঃখ ভাগ করে নেয়। তবে ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ এতে অংশ নিতে পারে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য।

আনন্দের উৎসব

নোহা নেছার অন্নি

ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে ঈদের শপিং ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার খবর মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ঈদের কেনাকাটায় সন্তুষ্ট করতে না পারার মানসিক চাপে পড়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। যদিও এ ধরনের ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ অনেক সময় ভিন্ন হতে পারে, তবুও ঘটনাটি আমাদের সমাজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে।

বর্তমান সময়ে উৎসবকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক চাপ অনেক পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবে অনেকেই নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করার চেষ্টা করেন, যাতে পরিবার বা সমাজের কাছে নিজেদের মর্যাদা বজায় থাকে। এর ফলে কখনও কখনও পারিবারিক সম্পর্কে অযথা চাপ, ভুল বোঝাবুঝি এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি যদি সঠিকভাবে সামলানো না যায়, তবে তা ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, উৎসবের আসল সৌন্দর্য অতিরিক্ত ভোগবিলাসে নয়, বরং পারিবারিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় নিহিত। পরিবারের সদস্যদের উচিত একে অপরের সামর্থ্য ও পরিস্থিতিকে সম্মান করা এবং অযথা চাপ সৃষ্টি না করা। একই সঙ্গে সমাজেরও উচিত এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তোলা যেখানে মানুষের মূল্যায়ন তার সামর্থ্য বা কেনাকাটার পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং তার মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ দিয়ে করা হয়। অতএব, ঈদের আনন্দকে সত্যিকারের অর্থবহ করতে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কল্যাণ ও শান্তির সওগাত নিয়ে আসে যে দিন

কোহিনুর শাকি

বছর ঘুরে আবার এল রমজানেরই ঈদ, খুশির ছোঁয়ায় ভরে যে মন নাই তো চোখে নীদসত্যিই তাই। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর অসংখ্য নেয়ামত ফজিলত এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুসলিম সমপ্রদায়ের নিকট আসে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ধমীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরে ঘরে নতুন পোশাক পরিধান সহ সুস্বাদু খাবার তৈরিরও ধুম পড়ে যায়। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে লোকজন সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে যা মন প্রাণকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি আর নীতি নৈতিকতার মধ্য দিয়ে জীবনকে পরিচালিত করতে সেই সাথে সকল ব্যবধানকে ভুলে পারিবারিক, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকল বিষয়ে সংযমী হওয়াই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের সার্থকতা। এটা যত উপলব্ধি করা যায় ততই মঙ্গল ইহকাল ও পরকালে।

সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা

সৈয়দা নাজিফা আক্তার

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই একরাশ ভালোবাসা। রমজানের পুরো মাসজুড়ে মানুষ আত্মসংযম, ধৈর্য ও সহানুভূতির চর্চা করে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট অনুভব করে ধনী মানুষও গরিবদুঃখীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে ওঠে। এই শিক্ষা ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলে। ফলে ধনী মানুষরা যাকাত, ফিতরা ও সদকার মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সমাজের ধনী ও গরিবের মাঝে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমানোর জন্য ইসলামে এসব ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। তাই ঈদের আনন্দকে অর্থবহ করতে হলে আমাদের উচিত দানশীলতার চর্চা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

ঈদ এবং ঈদের পূর্ববর্তী রমজানের ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবিকতা, সহানুভূতি এবং সাম্যের চর্চা। যদি আমরা রমজান ও ঈদের এই শিক্ষাকে সারা বছর জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে আমাদের সমাজ হবে শান্তিপূর্ণ, সহমর্মী ও কল্যাণময় যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই, বরং থাকবে আল্লাহর দেওয়া রহমত, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। এই শিক্ষা আমাদের ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅপেক্ষা
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশের নিম গাছ সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে