ঈদ আনন্দে সাম্য ও সমপ্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হোক

জাহিদ তানছির | বুধবার , ১৮ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

ঈদ মানে কেবল আনন্দ নয়, ঈদ মানে ত্যাগের মহিমা এবং ভালোবাসার ভাগাভাগি। পবিত্র মাহে রমজানে এক মাস সিয়াম সাধনার শেষ প্রান্তে সবার মনে প্রাণে শুরু হয়ে গেছে ঈদের সামগ্রিক প্রস্তুতি। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে এই ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। ছোটবড় সকল বয়সেই প্রিয়জনের সাথে ঈদে আনন্দের ভাগাভাগি এক অন্যরকম অনুভুতি। পরিবার থেকে দূরে থাকা কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে ঈদের সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো ‘বাড়ি ফেরা’। হাজারো কষ্ট সহ্য করে মানুষ যখন নাড়ির টানে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছায়, তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। অনেকেই লম্বা ছুটি পেয়ে ভ্রমণে বের হন। পরিবেশ এবং প্রকৃতি প্রেমী বিশেষ করে যারা দেশবিদেশ ঘুরতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই সময়টা বিশেষ সুযোগ করে দেয়। তাই তারাও পূর্বে থেকে নানা পরিকল্পনা করে নেন। সাধারণত স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঈদ উপলক্ষে দেশের আভ্যন্তরীণ রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেশী হয়। প্রায়শ দেখা যায়, সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে কর্তৃপক্ষ একটু বেশী আয়ের আশায় ধারণ ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে কিংবা চালকরা যাত্রাপথে নিজেদের মধ্যে কে কার আগে গন্তব্যে যাবে এমন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আবার দেখা যায় কিছু কিছু যাত্রি ঝুঁকি নিয়ে হুড়োহুড়ি করে গাড়ীতে উঠে পড়ে। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি মোটেও উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না। ঈদের সাময়িক আনন্দ নিজের অসতর্কতায় কোনভাবেই মাটি না হোক। এ বিষয়ে সবার সর্বোচ্চ সচেতনতা দরকার। ঈদের এই সময়টাকে উপলক্ষ করে কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষকরে, দালালচক্র, টিকিট কালোবাজারি, চুরিছিনতাইডাকাতি, চাঁদাবাজি, জাল টাকার ব্যবসায়ী উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সড়কে যানজট, পরিবহন টিকেটের কৃত্রিম সংকটতো প্রতিবছরই কারো অজানা নয়। যদিও এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আশাকরছি, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলগণ জনভোগান্তি কিংবা দুর্ভোগ দূর করতে এই বিষয়গুলোতে আন্তরিক হয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক স্তরে প্রশাসনিক নজরদারীও বাড়াতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঈদযাত্রায় নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধছোটবেলার ঈদ স্মৃতি