ঈদে সড়কে ফিরছে লক্কড়ঝক্কড় বাস

চট্টগ্রাম-মীরসরাই রুট

মীরসরাই প্রতিনিধি | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

প্রতি বছর ঈদ এলেই বাড়ি ফেরার আনন্দকে ছাপিয়ে ওঠে উদ্বেগ। বাইরে চকচকে রঙের প্রলেপ, ভেতরে জোড়াতালি দেওয়া ইঞ্জিন, সংকীর্ণ ও নোংরা সিটফিটনেসবিহীন পুরোনো বাসই হয়ে ওঠে ঘরমুখো মানুষের ভরসা। চট্টগ্রামমীরসরাই রুটে এমন লক্কড়ঝক্কড় বাসের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের নজরদারি আর কঠোর অভিযানের দাবি তুলছেন সচেতন মহল।

ঈদকে ঘিরে সড়কপথে যাত্রীচাপ বাড়ে প্রতিবছরই। এই সুযোগে কিছু পরিবহন কোম্পানি ফিটনেসবিহীন পুরোনো বাসে রঙের প্রলেপ দিয়ে নতুনের ছদ্মবেশে রাস্তায় নামানোর তোড়জোড় শুরু করে। বাইরে ঝকঝকে রং হলেও ভেতরে থাকে পুরোনো ও অকার্যকর ইঞ্জিন, দুর্বল বডি, ভাঙাচোরা ও সংকীর্ণ সিটযা যাত্রীদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি থেকে মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাটগামী কয়েকটি বাস নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। যাত্রীদের দাবি, এসব বাসে নিম্নমানের সেবা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিত্যদিনের ঘটনা। ঈদের সময় এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। ঈদের পরও সারা বছর একইভাবে চলতে থাকে এসব বাস।

ঈদের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। অনেকেই কেনাকাটা শুরু করেছেন। অল্পদিনের মধ্যেই শহর ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটবেন হাজারো মানুষ। কিন্তু সেই যাত্রাপথে অপেক্ষা করে নানা ঝুঁকি। মহাসড়কের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ; তার ওপর ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বারইয়ারহাট এলাকার কয়েকটি গ্যারেজে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো বাসে রং করা ও জোড়াতালি দেওয়ার কাজ চলছে পুরোদমে। রং শুকালেই কয়েক দিনের মধ্যে এসব বাস মহাসড়কে নামানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়বে, তেমনি যাত্রীদের গুনতে হবে দ্বিগুণ ভাড়া।

নিরাপদ সড়ক চাই’এর হিসাব অনুযায়ী, গত এক যুগে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বাস দুর্ঘটনায় সারাদেশে প্রায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার।

মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাট এলাকার কয়েকটি ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা কিছু গ্যারেজ দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সামনেই ওয়েল্ডিংসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শিশু ও নারীদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রামবারইয়ারহাট রুটের ‘চয়েস’, ‘উত্তরা’সহ কয়েকটি ভাঙাচোরা বাস সেখানে দ্রুত জোড়াতালি দিয়ে রং করা হচ্ছে।

একটি ওয়ার্কশপের মালিক শংকর বাবু বলেন, আমি অন্য জায়গা খুঁজছি, এখনো পাইনি। গাড়ির মালিকরা কাজ নিয়ে আসে, আমি শুধু মেরামত করি। বাকিটা প্রশাসনের বিষয়। গাড়ি মেরামতের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, এটা প্রতি বছরের নিয়মিত ঘটনা। ঈদে গাড়ির চাহিদা বেশি থাকে, তাই একটু ঘষামাজা করছি।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বিআরটিএ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন।

সচেতন মহলের প্রশ্নআর কত প্রাণহানি হলে জোরালোভাবে বাস্তবায়ন হবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিটি? ঈদের আনন্দযাত্রা কি এবারও শঙ্কা আর শোকের আশঙ্কা বয়ে আনবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধচন্দনাইশে বাইক দুর্ঘটনায় লোহাগাড়ার যুবকের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধপাহাড়তলী কারখানায় মেরামত হচ্ছে ট্রেনের ১০৫টি বগি