ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ৮ লাখ পর্যটকের সমাগম

৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | শনিবার , ২৮ মার্চ, ২০২৬ at ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ

ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে রেকর্ড পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। ঈদের পর দিন থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ছয়দিন পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। এসব পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে আছে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের সব পর্যটনকেন্দ্র। আজ শনিবারও বিপুল পর্যটক থাকবেন। সব মিলে অন্তত আট লাখ পর্যটক কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। এতে পর্যটন খাতে অন্তত ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি ছিল সাত দিন। ঈদের ছুটি শেষে ২৪ ও ২৫ মার্চ কর্মদিবস থাকলেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি ঘিরে টানা ছয়দিন পর্যটকের সমাগম ছিল। আজ শনিবারসহ টানা সাত দিন ধরে ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় লেগে আছে সমুদ্রপাড়ে। আগামীকাল থেকে চাপ কমবে, তবে আরো বেশ কিছুদিন পর্যটকের আনাগোনা থাকবে পর্যটনের এই নগরে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড়। পরিবারপরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা।

এদিকে পর্যটকের অতিরিক্ত চাপে কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউজের সব কক্ষই পূর্ণ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো কক্ষ খালি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার হোটেলমোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, নির্বাচন ও রমজানের কারণে ভরমৌসুমেও পর্যটকরা কক্সবাজারে বেড়াতে আসতে পারেনি। এই কারণে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় আট লাখ পর্যটক কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। এ সময়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২৮ মার্চের (শনিবার) মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং বাণিজ্যের পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

কলাতলী মেরিনড্রাইভ সড়ক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, শহরের সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। ৩০ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেলে অগ্রিম বুকিং রয়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল শুক্কুর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন ও রমজান শেষে ঈদ ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারের পর্যটন খাত ও দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি এসেছে। চেম্বারের পর্যবেক্ষণ মতে ৬০০ কোটি টাকার পর্যটন ব্যবসার লেনদেন হয়েছে। আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, ট্যুর সেবা, বিনোদন এবং খুচরা ব্যবসা এতে যুক্ত। এই উচ্চমুখী ব্যবসা এসব খাতকে সক্রিয় করেছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই বুকিং হয়ে যায়। পর্যটন স্পটগুলো সিসিটিভির আওতায় এনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. . মান্নান বলেন, পর্যটক হয়রানি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়ায় এক্সকেভেটর ও ট্রাকে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন
পরবর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু