শ্রম প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন রোজার ঈদের আগে কোনো পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই কিংবা লে–অফ ঘোষণা করা যাবে না। পোশাক কারখানার শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ত্রিপক্ষীয় সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এপ্রিলের ৯/১০ তারিখে ঈদুল ফিতর হতে পারে। ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন বোনাস দিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী সভা শেষে বলেন, মালিক পক্ষ, শ্রমিক নেতাদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা করেছি। ঈদ সামনে রেখে যাতে কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আলাপ আলোচনা করে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খবর বিডিনিউজের।
বিগত দিনে ঈদের সময় যেভাবে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এমনটি আমরা চাই না। আমরা এমনও দেখেছি, বিভিন্ন কলকারখানা ভাঙচুর করতে। এখানে মালিক–শ্রমিক প্রতিনিধি বসে আলোচনা করেছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় না যে, আগামী ঈদ সামনে রেখে কোনো অঘটন হবে। সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। যেগুলো হয় নাই সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করব। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমরা কথা বলেছি, কোনো উচ্চবাচ্চ্য হয় নাই।
ঈদের ছুটির আগেই সব কারখানায় বেতন–বোনাস দিতে বলা হয়েছে, তবে সেজন্য কোনো তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়নি বলে জানান নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, কে কোন সময় পারবে না পারবে ওটাতো আমরা জানি না। ঈদের আগে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। লে অফও করা যাবে না। এটা আমাদের কড়া নির্দেশনা। ঈদের ছুটির আগে মার্চ মাসের বেতন ও বোনাস দেওয়া হবে। বৈঠকে শ্রমিকদের জন্য রেশন চালুর বিষয়ে আলাপ হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী এটা গ্রহণ করবেন। ছুটির বিষয়টিও মালিক–শ্রমিক আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুল আহসান, বিকেএমইএর সহ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জাতীয় শ্রমিক লীগের নির্বাহী সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, জাতীয় শ্রমিক জোটের সেক্রেটারি জেনারেল নাঈমুল আহসান জুয়েল সভায় উপস্থিত ছিলেন।












