কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে একদিনে দুই দফা গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা যানবাহন আটকে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবার জিনিপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। আবার কয়েকজন যাত্রীকে অপহরণ করে পরে ছেড়ে দেয়।
গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে প্রথম দফায় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে একই স্থানে আবারও গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুই দফায় সিএনজিচালিত টেক্সি, টমটম ও মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলোয় এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গতকাল সকাল ৭টার দিকে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে হিমছড়ি ঢালায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল চারটি টমটম ও দুটি টেঙিতে থাকা যাত্রীদের জিম্মি করে। ডাকাতরা গাড়িতে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
সকালের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর ২টার দিকে একই সড়কে আবারও গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সড়কের দুই পাশ থেকে টেঙি, টমটম ও মোটরসাইকেল আটকে অর্ধশতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে। এ সময় যাত্রীদের জিনিসপত্র ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় দফার ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এনজিও সংস্থা মুক্তির কঙবাজারের ঈদগড়ের সহকারী অ্যাকাউন্টস অফিসার আবদুল হাকিম, সুপার স্টার কোম্পানির প্রতিনিধি রবিউল এবং এনজিও সংস্থা ইপসার কর্মী ইমন ও পিউ চাওদা ইকরামা। ভুক্তভোগী আবদুল হাকিম জানান, ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে সংস্থার দেড় লাখ টাকা ও তার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। রবিউল বলেন, দিনদুপুরে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে এভাবে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাটের ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ব্যবসায়ী আবুল কাসেম বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা যেন জঙ্গল সলিমপুরের মতো পরিস্থিতিতে বসবাস করছি। এখানে ডাকাতদের ক্ষমতা চলে।
গণডাকাতির খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশে অভিযান চালায়। এ সময় গহিন জঙ্গল থেকে বোরকা, গেঞ্জি ও শার্ট উদ্ধার করা হয়।
ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদা জানান, ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়দের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে, বিশেষ করে গহিন জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যহত আছ।











