নগরীর হালিশহরে ইয়াবা খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা চেয়ে না পেয়ে এক পাঠাও চালককে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. শহীদুল ইসলাম। নোয়াখালীর হাতিয়ার চরকিং এলাকার বাসিন্দা সে। থাকতেন নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন মনসুরাবাদের পানওয়ালাপাড়া এলাকায়। গতকাল সেখান থেকেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত ছুরি ও ভিকটিমের ব্যবহৃত হেলমেট উদ্ধার করা হয়। ভিকটিম পাঠাও চালক হলেন– ওজিয়র রহমান। তিনি মেহেরপুর জেলার বাসিন্দা। স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান নিয়ে নগরীর বন্দর থানাধীন ৫ নম্বর গেইট এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানায়, ভিকটিম পাঠাও চালক ওজিয়র রহমান গত ১১ জানুয়ারি মোটরসাইকেলযোগে হালিশহরের বুইল্লা কলোনি কলাবাগান এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শহীদুল ইসলামকে কোথায় যাবে বলে জিজ্ঞেসা করেন ওজিয়র রহমান। তখন শহীদুল ইসলাম তাকে জানান– তিনি কোথাও যাবেন না, তাকে ইয়াবা খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা দিতে হবে। একথা শুনার সাথে সাথে ওজিয়র রহমান ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শীহদুল ইসলাম তার প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ছুরি বের করেন এবং ওজিয়র রহমানের পেটে আঘাত করেন। পুলিশ আরো জানায়, পেটে ছুরির আঘাত সত্ত্বেও ওজিয়র মোটরসাইকেল থেকে নামেন নি, তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর নগরীর বন্দরের নতুন পোর্ট মার্কেট এলাকার বন্দর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ঘটনার পরদিন ওজিয়র রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতেই গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তথ্য–প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শহীদুলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন পেশা নেই জানিয়ে ওসি বলেন, তিনি ভবঘুরে ধরণের লোক। ছুরি–ছিনতাই এর মতো কাজ করে বেড়াতেন। গ্রেপ্তার পরবর্তী তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদ করা হয়েছে। আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য আদালতে তার রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শদীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র–মাদক আইনে ৫ টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি মো. আব্দুর রহিম।












