ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বুধবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব১৮ জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে বিভাগীয় পর্যায়ের ফাইনালে উঠেছে চট্টগ্রাম জেলা দল। গতকাল মঙ্গলবার হাটহাজারীস্থ কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল খেলায় তারা ১৮ রানে কুমিল্লা জেলা দলকে পরাজিত করে।

টসে জিতে কুমিল্লা অনূর্ধ্ব১৮ জেলা দল প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামে। আর প্রথম ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম অনূর্ধ্ব১৮ জেলা দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে। চট্টগ্রামের উদ্বোধনী জুটি ৩৩ রান করে বিচ্ছিন্ন হয়। এই জুটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর চট্টগ্রাম খুব দ্রুতই চার চারটি উইকেট হারায়। এ সময় ৫ উইকেটে চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৪৪ রান। ওয়াহিদ মুরাদ ২ এবং ইমরান হোসেন সামি ১ রান করে ফিরে যান। সিয়াম উল আওয়াল কোন রানই করতে পারেননি। এর আগে দুই উদ্বোধনী ব্যাটার মো. আবিদ ১৭ এবং মিফতাহুল আলম ২১ রান করে আউট হয়ে যান। আবিদ ৩৬ এবং মিফতাহুল ২৭ বল খেলেন। দুজনেই ৩টি করে চার হাঁকান। পাঁচ উইকেট হারানোর পর ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে অধিনায়ক জুনাইদ হোসেন এবং ৭নম্বরে খেলতে নামা আদিল চৌধুরী দলীয় রান সংখ্যা শতের কোঠা পার করাতে সক্ষম হন। দলীয় ১১০ রানে এ জুটি ভেঙ্গে যায়। আদিল চৌধুরী ৩৭ রান করে আউট হয়ে গেলেও অধিনায়ক জুনাইদ অর্ধশতক তুলে নেন। আদিল ৬৯ বল খেলে ৬টি চারের সাহায্যে ঐ রান করতে সমর্থ হন। অধিনায়ক জুনাইদ একদিকে ধরে খেলতে থাকেন। তাকে যোগ্য সহযোগিতা দেন দশ নম্বরে খেলতে নামা কাজী আবদুল্লাহ সায়েম। এ জুটি শেষ দিকে ৪৮ রান যোগ করলে দল দেড়শোর কোঠা পার হতে সক্ষম হয়। সায়েম ২৮ বলে মূল্যবান ২৬ রান করেন ২টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে। এর আগে মিনহাজুল হক ০৮ এবং আরাফ হোসেন ০০ দ্রুত আউট হয়ে যান। সায়েমের আউটের পর চট্টগ্রাম বেশিদূর এগুতে পারেনি। আশরাফুল ইসলাম ২ রান করে রান আউটের শিকার হলে চট্টগ্রাম ১৭২ রানে থেমে যায়। অধিনায়ক জুনাইদ হোসেন ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৮৫ বল খেলে ৩টি চার এবং ১টি ছক্কা হাঁকান জুনাইদ। অতিরিক্ত থেকে চট্টগ্রামের ইনিংসে জমা হয় ৭ রান।

বোলিংয়ে কুমিল্লা জেলা দলের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ২২ রান দিয়ে ৩টি এবং নূর মোহাম্মদ আরিফ ৩৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া ফরহাদ হাসান ২টি এবং তামিম ১টি উইকেট পান।

জবাব দিতে নেমে কুমিল্লা অনূর্ধ্ব১৮ দল ৪৮.৪ ওভার খেলে ১৫৪ রানে সবাই আউট হয়ে যায়। শুরুতেই কুমিল্লা ধাক্কা খায়। দলীয় মাত্র ১ রানে ওপেনার এবং অধিনায়ক নীলাদ্রী শেখর আশরাফুল ইসলামের বলে এলবির শিকার হন। নীলাদ্রী কোন রান করতে পারেননি। দলীয় ৩৯ রানে পরপর দুটি উইকেট হারায় কুমিল্লা। ওপেনার আফনান ইনতিহাদ ১৬ এবং ইবনে মাহিম আসিফ ০০ সায়েমের বলে আউট হয়ে বিদায় হন। দলীয় ৭৯ রানে ৪র্থ,৫ম এবং ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে কুমিল্লার। আহমেদ দিবাত ১৩ এবং প্রান্ত দেবনাথ ০০ আদিল চৌধুরীর বলে পরপর আউট হয়ে যান। দলীয় ঐ একই রানে নূর মোহাম্মদ (৩২) সামির বলে মিনহাজুলের হাতে ধরা পড়েন। ৮৫ বল খেলে ৪টি বাউন্ডারী মারেন নূর মোহাম্মদ। কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন ৭ নম্বরে খেলতে নামা মো. ফাইজুল হক। ৫৯ বল খেলে ৪৭ রান করেন তিনি ৪টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে। বাকিরা কেউ দুই অংকের ঘরে যেতে পারেননি। লুৎফুর রহমান ০০,ফরহাদ হাসান ০৬,তামিম ০৬ এবং মোস্তাফিজুর রহমান অপ. ০৯ রান করেন। অতিরিক্ত থেকে কুমিল্লার ইনিংসে জমা হয় ২৫ রান। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বোলাররা ২২টি ওয়াইড দেন। চট্টগ্রামের পক্ষে আদিল চৌধুরী ২৯ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেটের পতন ঘটান। ২টি করে উইকেট পান কাজী আবদুল্লাহ সায়েম এবং ইমরান হোসেন সামি। সায়েম ৩০ এবং সামি ১৮ রান খরচ করেন। আশরাফুল ইসলাম ৪৬ এবং মিনহাজুল হক ১০ রান দিয়ে ১টি করে উইকেটে নেন।

আগামী ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ফাইনালে চাঁদপুরের মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের অপর সেমিফাইনালে চাঁদপুর ফেনিকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে। চট্টগ্রামচাঁদপুরের ফাইনাল খেলাটি হাটহাজারীস্থ কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিপিএলের স্থগিত হওয়া ম্যাচের নতুন সূচি
পরবর্তী নিবন্ধবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া