মহিমান্বিত ফজিলতপূর্ণ রোজার মাস ধীরে ধীরে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। মাহে রমজানের শেষ দশ দিন হচ্ছে জাহান্নাম থেকে মুক্তির তথা জান্নাত লাভের বড় সুযোগ। মাসব্যাপী কঠিন সিয়াম সাধনা, তারাবির নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, ইতিকাফ, গরিব–দুঃখীদের মাঝে জাকাত ও ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
রোজার এই শেষ পর্বে বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। রোজার মাসে শ্রমজীবী–কর্মজীবীদের কাজের বোঝা হালকা করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন নবীজী (দ.)। শ্রমজীবীদেরকে জীবন ধারণ উপযোগী বাঁচার মতো মজুরি তথা বেতন–ভাতা দেওয়াই হচ্ছে ইসলামের নির্দেশনা। শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার বেতন–মজুরি পরিশোধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রিয় নবী (দ.)। শ্রমিকের দোষ–ত্রুটি ক্ষমা করে দিতে বলেছেন তিনি।
আবু দাউদ শরিফের হাদিসে রয়েছে : ‘ভুলের জন্য এমনকি প্রত্যেক দিন সত্তরবার তাকে ক্ষমা করবে।’ মালিকের অভদ্র আচরণকে ঘৃণা করে প্রিয় নবী (দ.) বলেছেন, ‘অসদাচরণকারী মালিক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’
প্রিয় নবীর (দ.) একান্ত খাদেম হযরত আনাস (রাদ্বি.) বলেন, আমি রাসুলের (দ.) অধীনে দশ বছর কাজ করেছি, তাঁর খেদমত করেছি। অথচ এই দশ বছরে প্রিয় নবী (দ.) কোনোদিন আমাকে ভর্ৎসনা করেননি। কোনোদিন বলেননি, এটা এভাবে কেন করেছ, ওটা ওভাবে কেন করোনি?’ (বোখারি শরিফ)। একজন শ্রমিক অন্যজনের কাছে কাজ করে অর্থের প্রয়োজনে। শ্রমিকের পরিবার আছে, মা–বাবা, ভাই–বোন–স্ত্রী এবং সন্তান–সন্তুতি আছে। শ্রমিক শ্রম দিচ্ছেন নিজের জীবন পরিচালনা এবং তার পোষ্যদের ভরণ–পোষণ নির্বাহ করার জন্য। তাই তাকে যিনি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করবেন উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব।
ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিকের কাজের মজুরি যথাযথভাবে দিতে হবে। কোনোরকম জুলুম, শোষণ–নিপীড়ন করা উচিত নয়। অধীনস্থদেরকে ন্যায্য বেতন তথা জীবন ধারণ উপযোগী বেতন–ভাতা না দিলে আল্লাহ পাক মালিক পক্ষের উপর অসন্তুষ্ট হন। উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়া শ্রমিকের অধিকার। শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ তাকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
হযরত মুসা (আ.) যখন হযরত শোয়াইবকে (আ.) শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিলেন তখন বললেন, ‘আমি তোমার উপর সাধ্যের অতীত কঠিন কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।’ আল্লাহ পাক কোরআন মজিদে বলেছেন, ‘আমি কাউকে সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দিই না।’ শ্রমিক–কর্মজীবীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা ইসলামের নির্দেশনা–তা যেন সর্বাবস্থায় আমরা মনে রাখি। কোনো অবস্থাতেই শ্রমজীবী–কর্মজীবীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখানো যাবে না। তাঁদেরকে বাঁচার মতো মজুরি দিতে হবে। তাদেরকে কম বেতনে চাকরি করতে বাধ্য করা যাবে না।












