মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে মিঞা আরেফী নামের যে ব্যক্তি বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তিনি ইসরায়েলের এজেন্ট বলে ধারণা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদের। সচিবালয়ে গতকাল এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, গতকাল (শনিবার) তারা একজন ব্যক্তিকে ধরে এনে জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে তাকে দিয়ে সেখানে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে দিয়েছে, কথা বলেছে। পাশে আবার তাদের বড় বড় নেতারা বসেছিল। মার্কিন দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে বলেছে, সে সরকারের কেউ নয় এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবও বলেছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। কিন্তু এখানে স্পষ্টত বিএনপি একটি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। ২৮ অক্টোবর সমাবেশের নামে হাসপাতাল, পথচারী, সাংবাদিক, পুলিশ এবং বিভিন্ন স্থাপনার ওপরে বিএনপির হামলাকে ইসরায়েলি বাহিনী ও একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতার সাথে তুলনা করেছেন তিনি। খবর বিডিনিউজ ও বাসসের।
হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের কাছে যে খবর আছে, সেই ব্যক্তিটি হচ্ছে ইসরায়েলের একজন এজেন্ট, এটি বিভিন্ন সূত্র বলছে। ইসরায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে বিএনপি–জামায়াত কিছু বলেনি। এজন্য ইসরায়েল বিএনপির ওপর সন্তুষ্ট। অনেকে বলছে, একজন ইসরায়েলি এজেন্টকে তারা পাঠিয়েছে, যাকে নিয়ে কালকে তারা সভা করেছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা পুলিশ মেরেছে এবং প্রধান বিচারপতির বাড়ি, বিচারপতিদের কমপ্লেক্স এবং হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি প্রয়োগ করবে বলে তিনি আশা করছেন।
বিএনপির সমাবেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দলের পক্ষ হয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যায়নি, তারা সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গেছেন। তাদের ওপর কেন হামলা হলো? গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। আমি এগুলোর তীব্র নিন্দা জানাই এবং এটির বিচার হবে।
তিনি বলেন, সরকার বিএনপি এবং জামায়াতকে সমাবেশ করার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু তারা সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা চালায়, জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায় এবং পুলিশ বক্সের উপর হামলা চালায়, পুলিশ বক্স জ্বালিয়ে দেয়। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হচ্ছে তারা পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ ১৯টি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, ভাঙচুর করেছে।
কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে বর্বরতা করতে পারে না মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর দায় শুধু যারা করেছে তাদের নয়, দায় নির্দেশদাতাদের। কারণ তারা এই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। তারা বোমা নিক্ষেপ করেছে, পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করেছে এবং পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। যদি সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় না দিত তাহলে শতাধিক পুলিশ আনসার সদস্যসহ প্রায় দেড় শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হতো না। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে বিধায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আহত হয়নি।












