ইরান যুদ্ধে শেষ মুহূর্তের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা কি কাজ করবে?

| মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন অন্যদিকে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করছেন। সর্বশেষ ট্রাম্প ইরানে সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া নতুন সময়সীমা শেষ হবে আজ মঙ্গলবার রাত ৮ টায়। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু দিবস’। এর আগেও ট্রাম্প বহুবার হামলার হুমকি দিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং তা স্থগিতও করেছেন। গত ২১ মার্চ থেকে ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে একাজ করে এসেছেন। ওইদিন ট্রাম্প প্রথম ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু তখন থেকে যতবারই তিনি হুমকি দিয়েছেন, ততবারই তিনি সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথা বলেছেন। খবর বিডিনিউজের।

অপরদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবারই আলোচনার দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে ট্রাম্প ইরানকে সুনির্দিষ্টভাবে নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন মঙ্গলবার রাত ৮ টা পর্যন্ত (ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটা)। হাতে আছে এক দিনেরও কম সময়। এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তত একটি সমঝোতা করানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে এরই মধ্যে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। ইরানেই নিহত হয়েছে ২ হাজার মানুষ। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় ১৫০০ জন। ইরাকে মারা গেছে ১০০, ইসরায়েলে ২৪ জন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ২৭ জন। যুক্তরাষ্ট্র খুইয়েছে ১৩ জন সেনাকে। তাছাড়া, রোববার যুক্তরাষ্ট্র অনেক ঝুঁকি নিয়ে ইরানে একটি বিধ্বস্ত মার্কিন এফ১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কেমন হবে? মধ্যস্থতাকারীরা কি সময়মত আদৌ কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে?

মধ্যস্থতাকারীদের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে জানিয়েছে, ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার টেবিলে আছে। এর উদ্দেশ্য হল: সময় বাড়ানো। যাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অথবা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা করতে পারে এবং যুদ্ধ শেষ করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছতে পারে। কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদানে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার নিয়ে সোমবার নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। আবার এই পরিকল্পনা অস্বীকারও করেনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব বা ১৫ দফা দাবিদাওয়া বিনিময় নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন নজরে এসেছে। আমরা এ ধরনের ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করি না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, শান্তি প্রক্রিয়া চলমান।’

ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে দেওয়া ১৫ দফা দাবিদাওয়া পাকিস্তান পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু ইরান ওই পরিকল্পনায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোর বিষয়ে বলেছে, সেগুলো অগ্রহণযোগ্য।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাঙিওস ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে কর্মকর্তারা ও মধ্যস্থাতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথা বলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষত, আলোচনার চেষ্টায় সংবেদনশীলতা ও ওয়াশিংটনের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন কর্মকর্তাদের এই অবস্থান নেওয়ার অন্যতম কারণ।

মধ্যস্থতার চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতির একটি দ্বিতীয় প্রস্তাবও বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। এর আওতায় যুদ্ধে বন্ধে ব্যাপক পরিসরে কোনও আলোচনা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যাতে পরে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সোমবার রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তান একটি পরিকল্পনা বিনিময় করেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির রোববার রাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হলে পরে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি পূর্ণ চুক্তি করা হবে। তবে ইরান এখনও কোনও পরিকল্পনাই মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসারাদিন এসিতে থাকলে বাড়তে পারে ওজন
পরবর্তী নিবন্ধজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ