ইরান যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের

| শনিবার , ৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

চলমান ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলসহ সব পক্ষের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ জানিয়েছে একদল বিশেষজ্ঞ। আন্তর্জাতিক আইনের শতাধিক বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিটি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব লএর অনলাইন সাময়িকী ‘জাস্ট সিকিউরিটি’তে প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ওপর হামলা চালানোর মার্কিনইসরায়েলি সিদ্ধান্ত ছিল জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ জাতিসংঘ সনদ আত্মরক্ষা বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া শক্তি প্রয়োগ সমর্থন করে না। খবর বিডিনিউজের।

চিঠিতে বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ‘উসকানিমূলক বাগাড়ম্বর’ বা বক্তব্যের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তারা ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কথাও বলেছেন। বিশেষজ্ঞরা ‘শত্রুদের জন্য কোনো করুণা’ দেখানো হবে না বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের দেওয়া বিবৃতিরও বিরোধিতা করেছেন।

যুদ্ধে ‘ডিনায়াল অব কোয়ার্টার’ নামে একটি শব্দের ব্যবহার আছে, যার অর্থ হলো, আত্মসমর্পণকারী বা যারা আহত, তাদেরসহ কাউকেই জীবন ভিক্ষা দিতে অস্বীকার করা। চিঠিতে সই করা ব্যক্তিরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনে এটি ঘোষণা করা ‘বিশেষভাবে নিষিদ্ধ’। এমনকি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নিজস্ব যুদ্ধ আইনের ম্যান্যুয়ালেও এ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক বিচারক জোনাথন ট্রেসি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আইনি উপদেষ্টা হ্যারল্ড হংজু কোহ এবং ইয়েল ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এবং আমেরিকান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল এর প্রেসিডেন্ট উনা এ. হ্যাথাওয়ে। তারা বলেন, আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, উল্লিখিত আচরণ এবং হুমকিগুলো বেসামরিক নাগরিকদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। একইসঙ্গে এগুলো আইনের শাসন ও মৌলিক নীতিগুলোকে ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা প্রতিটি দেশের বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের এই চিঠির কড়া সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউজ। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তারা ‘তথাকথিত বিশেষজ্ঞ’ বলেও উড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। চিঠির জবাবে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ বলছে, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান আমেরিকানদের ‘হত্যা ও আহত’ করা, ‘সন্ত্রাসের এক নম্বর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে কাজ করছে। দেশটির দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য নিজেদের মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করারও অভিযোগ এনেছে তেহরানের বিরুদ্ধে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহল্যান্ড থেকে
পরবর্তী নিবন্ধসিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর