অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার পর নিজ দেশে ফেরার আশঙ্কা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছেন ইরান নারী জাতীয় ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ও দেশটির সরকারের সহায়তায় ওই পাঁচ খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে। যে পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন তারা হলেন: ফাতেমেহ পাশানদিদেহ, জাহরা গানবারি, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামেজানিজাদেহ এবং মোনা হামৌদি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ান কাপ চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন ইরান দল। সেখান থেকে রাতের আঁধারে দলীয় কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে বেরিয়ে এসে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান ওই পাঁচ খেলোয়াড়। পরে তাদের একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক নিশ্চিত করেছেন, রাতভর প্রক্রিয়া শেষে তাদের মানবিক ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে। বার্ক বলেন, ‘গত রাতে আমি তাদের আবেদন মানবিক ভিসার আওতায় অনুমোদন দিয়েছি। রাত প্রায় দেড়টার কিছু পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে।’ ইরান দল এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় গেলেও টুর্নামেন্ট চলাকালেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান দলের খেলোয়াড়রা। এই ঘটনাকে অনেকেই প্রতিবাদের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। এর পরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে খেলার পর স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় দলের বাসে ওঠার আগে কয়েকজন খেলোয়াড়কে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় বলেও জানা গেছে।












