ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে যেভাবে সাহায্য করল পাকিস্তান

| বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই পাকিস্তান থেকে সামান্য কিছু আশার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। নাম গোপন রাখার শর্তে এক পাকিস্তানি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছিল, আলোচনা ‘দ্রুতগতিতে’ এগিয়ে যাচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে খুব ছোট একটা চক্রের লোকজন আলোচনা পরিচালনা করছেন আর পরিবশেটা বিষণ্ন ও গুরুগম্ভীর। কিন্তু তারপরও আশা করা হচ্ছে ফল হিসেবে শত্রুতা বন্ধ হবে। অল্প কয়েক ঘণ্টা বাকি আছে। খবর বিডিনিউজের।

পাকিস্তান গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছিল, দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করছিল। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে তাদের ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা নিয়মিতভাবে উল্লেখ করে ইসলামাবাদ। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে তার ‘প্রিয়’ ফিল্ড মার্শাল বলে উল্লেখ করেছেন আর বলেছেন যে তিনি ইরানকে ‘অনেকের চেয়ে ভালো’ চেনেন।

সমঝোতা হবে, কি হবে নাএমন নিশ্চয়তা তখনও অনেক দূরে। মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে কথা বলার সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, গতকাল পর্যন্ত আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম যে বিষয়গুলো ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। সোমবার ইরানে ইসরায়েলের হামলা আর সৌদি আরবে ইরানের হামলা ওই আশাবাদে পানি ঢেলে দেয়। তারপরও দার বলেন, পাকিস্তান এখনো যতোটা সম্ভব বিষয়গুলো সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ফিল্ড মার্শাল মুনির আরও বেশি সমালোচনামূখর ছিলেন। মঙ্গলবার সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, সৌদি আরবের ওপর এ হামলা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসনের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে নষ্ট করছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের প্রতি পাকিস্তানের ব্যবহার করা সবচেযে কঠোর ভাষাগুলোর মধ্যে এটিও ছিল। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, মুনিরের ওই মন্তব্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারে। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে, কিন্তু সৌদি আরবের ওপর বারবার হামলা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সেটি প্রয়োগ করা হয়নি। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এঙ এ এক পোস্টে লিখেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো অবিচলিতভাবে, দৃঢ়ভাবে ও জোরালোভাবে এগোচ্ছে আর অদূর ভবিষ্যতে তা সম্ভাব্য বাস্তব ফল দিতে পারে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চূড়ান্ত সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো যায় কিনা আর ওই একই সময় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া যায় কিনা তা ইরানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৩টার দিকে এঙ এ এক পোস্টে লিখেন, সঙ্কটজনক, সংবেদনশীল অবস্থা থেকে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। ভোর ৫টার ঠিক আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ ঘোষণা করেন যে একটি যুদ্ধবিরতির সমঝোতার হয়েছে আর ‘একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আরও আলোচনা করতে’ দুই পক্ষকে ১০ এপ্রিল, শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ওই পাকিস্তানি সূত্র বিবিসিকে বলেন, আমরা এখনও অনেক সতর্ক। পরিস্থিতি এখনও অনেক ভঙ্গুর। দৃঢ়ভাবে অপরিবর্তনশীল অবস্থানে থাকা দুই পক্ষ এখনও একে অপরকে বিশ্বাস করে না। পাকিস্তান হয়তো দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারবে, কিন্তু তারা কী কী বিষয়ে একমত হতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংরক্ষিত আসন আলোচনায় চট্টগ্রামের দেড় ডজনেরও বেশি নেত্রী
পরবর্তী নিবন্ধমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালো বাংলাদেশ