গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তাদের আকাশ, স্থল ও জলপথ ব্যবহার করতে দেবে না। গতকাল সোমবার আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় কোনো লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার চাইতে ইউএই কর্তৃপক্ষ বরং সমস্যা কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করার ওপর জোর দিয়েছে। সংলাপ বাড়ানো, উত্তেজনা কমানো, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করাই বর্তমান সংকট সমাধানের সর্বত্তোম পন্থা বলে আরব আমিরাত বিশ্বাস করে, বলা হয় বিবৃতিতে।
ইরানে বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী দমনাভিযানের পর গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ‘আর্মাডা’ বা নৌ–বহর উপসাগরের দিকে যাচ্ছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। যেকোনো মূহুর্তে ইরানে হামলা চালানোর ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবার তাদের অবস্থান জানাল। যদিও আরব আমিরাতে রাজধানী আবুধাবির কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে আছে হাজারো মার্কিন সেনা কর্মকর্তা। খবর বিডিনিউজের।
আরব আমিরাতের মতো একইরকম বিবৃতিতে এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবও বলেছে, ইরানে হামলায় তারা তাদের আকাশ ও স্থলপথ ব্যবহার হতে দেবে না। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কিছু এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এর মধ্যে আছে দুটি ইউরোপীয় এয়ারলাইন্স এবং এয়ার ফ্রান্স। দুবাইয়ে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এয়ার ফ্রান্স।
ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম–ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে এবং ইরাক ও ইরানসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় সমপ্রচারমাধ্যম। ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সও বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছু ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।












