ইরান আলোচনা চেয়েছে, তবে আগেই কিছু করতে হতে পারে : ট্রাম্প যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও : ট্রাম্পকে ইরান
সরকারবিরোধী আন্দোলনে পর্যুদস্ত ইরান। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পক্ষ থেকে এর পাল্টা জবাব নিয়ে পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখনই নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বললেন, ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছে ইরান।’ ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়ে ফোন করেছে। তবে ইরানে যা ঘটছে, তাতে বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে এবং দেশটির বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশে যে অস্থিরতা চলছে তাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বলা যায় না, এটি ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, আলোচনার জন্যও।’ দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভকে ‘সহিংস ও রক্তক্ষয়ী বানানোই হয়েছে’ ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপ করার অজুহাত দেওয়ার জন্য, সোমবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। আরাগচি বলেছেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করলেও ‘পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’।
গতকাল সোমবার ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে সরকারের পক্ষে বড় বড় সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানে সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির খবর নিশ্চিত করেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক। দেশজুড়ে এসব সমাবেশে অংশ নিতে ইরানি কর্মকর্তারা জনগণের প্রতি রোববার থেকেই আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। রক্তক্ষয়ী সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এ ‘জাতীয় প্রতিরোধ শোভাযাত্রায়’ অংশ নিতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ানও অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আরাগচি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলো’ সরকারি ভবন, থানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিশানা বানিয়েছিল।
২০২২ সালের পর এবারই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে ইরানের সরকার। ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে বলছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই হুমকির মুখে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানালেও বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম খোলা রয়েছে এবং যখনই প্রয়োজন হচ্ছে বার্তা বিনিময় করা হচ্ছে।’ ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যস্থতাকারী সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমেও যোগাযোগের পথ খোলা আছে বলে তিনি জানান। তবে বাঘাই অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ থেকে বোঝা যায় তারা এ বিষয়ে আন্তরিক নয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ট্রাম্প তার উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে বিকল্প পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি এবং সরকারবিরোধী পক্ষগুলোকে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা। ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের অভিযোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।












