মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে ‘আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’ ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তা ঘটবে।’ উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানকে এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টা (আমেরিকার সময় অনুযায়ী) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি আজ বুধবার ভোর ৬টা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান ‘যথেষ্ট ধৈর্য’ দেখানোর পাশাপাশি হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ‘সতর্কতা অবলম্বন’ করে আসছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, ‘এখন থেকে এই ধরনের কোনো বিবেচনা বা সীমাবদ্ধতা মেনে চলা হবে না।’ আইআরজিসি বলছে, যদি মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তবে ইরানের জবাব এই অঞ্চলের ভৌগোলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে ইরান এবং এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা বছরের পর বছর ধরে অচল করে দেবে। খবর বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানের প্রধান তেলভান্ডার খার্গ আইল্যান্ডে হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গের ৫০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের সংবাদসংস্থা মেহর প্রথম এই হামলার খবর প্রকাশ্যে আনে। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও এই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। সে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, সংযম শেষ। তাদের দাবি, তারা আমেরিকা এবং তাদের বন্ধু দেশগুলির জ্বালানি পরিকাঠামো ধুলিসাৎ করতে পারে।

ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে মঙ্গলবার স্থানীয় সময়ে দুপুর ২টো থেকে জমায়েতের ডাক দেয় ইরানের ক্রীড়া এবং যুব মন্ত্রণালয়। এতে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে ইরানের তরুণ প্রজন্মকে। জমায়েতে সে দেশের শিল্পী এবং ক্রীড়াব্যক্তিত্বদেরও থাকার জন্য বলেছে ইরান সরকার। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত নারী পুরুষ শিশু ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও স্থাপনায় মানববর্ম রচনা করে।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র হামলা নিয়ে সৃষ্ট গুঞ্জন নাকচ করেছে হোয়াইট হাউজ। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনও পারিকল্পনা থাকার কথা হোয়াইট হাউজ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্পের ওই মন্তব্য ছাড়াও ইরানে সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যও ইরানে পারমাণবিক হামলা নিয়ে জল্পনা উস্কে দেয়। তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম কার্যকরে মার্কিন বাহিনীর হাতে এমন কিছু অস্ত্র আছে, যা ‘এখনও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি’। এরপরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালাতে পরে বলে আলোচনা শুরু হয়। তবে ভ্যান্সের বক্তব্যে পারমাণবিক হামলার কোনও ইঙ্গিত ছিল না বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেবল প্রেসিডেন্টই জানেন পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়ে এবং তিনি কি করবেন।’
অপর এক খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে মঙ্গলবারের ভোটে একটি প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হয়েছে। চীন ও রাশিয়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট। কলম্বিয়া ও পাকিস্তান ভোটদানে বিরত ছিল। ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘে এই ভোট হয়। হরমুজ প্রণালি বল প্রয়োগ করে খোলা নিয়ে চীন ও রাশিয়ার আপত্তির কারণে প্রস্তাবটি বারবার বদলানো হয়েছে। চীনের আপত্তির মুখে খসড়া প্রস্তাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ খোলার অংশটি বাদ দেওয়া হয়।













