ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত যুবক হবি পাইক (৪০) বাগদাদের কাছে থাকতেন বলে তথ্য দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তিনি সদর উপজেলার অধারা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের নলি মিয়া পাইক ও লাকি বেগমের সন্তান। বাগদাদে থাকা বাংলাদেশি এক সহকর্মী হবি পাইকের নিহত হওয়ার খবর তার ভাইয়ের কাছে দিয়েছেন বলে জানান নিহতের স্ত্রী খাদিজা আক্তার মিতু। ইরান যুদ্ধে পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে একজন দুবাই, একজন বাহারাইন ও দুজন সৌদি আরবে মারা গেছেন। খবর বিডিনিউজের।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হবি পাইক ১০ বছর ধরে বাগদাদের কাছে বসবাস করতেন। তিনি ২০১৬ সালে ইরাকে যান। তারপর থেকে তিনি আর দেশে আসেননি। তবে তিনি পরিবারের কাছে বিকাশে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। তবে তিনি কী কাজ করতেন তা তারা ঠিকমত জানেন না। তারা শুধু এটুকু জানাতে পারেন, বাগদাদের কাছে ‘হিজবুল্লাহ’ নামের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। সেই কোম্পানির মালিকের নাম হিজবুল্লাহ। হবির স্ত্রী মিতু তাদের দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকার শনির আখড়ার কাজলা এলাকায় থাকেন। তাদের বড় মেয়ে হাবিবা (১৬) দশম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে (১০) আলিছা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়েন।
মিতু বলেন, সবশেষ শুক্রবার রাত ২টার দিকে হবির সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি যুদ্ধের মধ্যে স্বামীকে গ্রামের দিকে চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু স্বামী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তার এখানে কিছু হবে না। শনিবার সারাদিন চেষ্টা করেও তিনি আর স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও কোনো সাড়া দেননি। এর পর হবির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় তিনি বলেন, পরে রাত দেড়টা পর্যন্ত মিতু তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু পারেননি। পরে রাত ৩টার দিকে ইরাকে বাসবাসকারী হবির পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি মিতুকে জানান যে, হবিকে পুলিশ ধরেছে। এজন্য তিনি ফোনে পাচ্ছেন না। তার জন্য চিন্তা না করে দোয়া করতে বলেন। মিতু বলেন, সোমবার সকালে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করেন। তখন খবরা–খবর নেন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় আবার ফোন করে আমার স্বামীর মৃত্যুর খবর জানান। আমার ছোট ভাইয়ের কাছে ফোনে এই খবর জানান। ওই ব্যক্তি বলেন, আমার স্বামী আর তিনি একসঙ্গে কাজ করতেন। মালিক তাকে এই খবর জানাতে বলেছেন এবং ইরাকে পরিচিত কেউ থাকলে তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছে। তারাও বিপদের মধ্যে আছেন। আমার ভাই বিশ্বাস করেনি। তখন বলেছে, ইরানের মিসাইলের আঘাতে তিনি প্রথমে আহত হন। তখন স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তিনি মারা যান। লাশ হাসপাতালেই আছে। হবি দীর্ঘ সময়েও কেন দেশে আসেননি– জানতে চাইলে তার স্ত্রী মিতু বলেন, বলত কাগজ হলে আসবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও হবির মৃত্যুর খবরের বিষয়টি জেলা বা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি বলে জানান মিতু। তিনি স্বামীর মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা নিহত হবির চাচাতো ভাই কাদির গাজি, চাচা আবুল কাসেম, চাচী নূরজাহান বেগম বলেন, তারাও হবি পাইকের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। তবে এর বিস্তারিত কিছু জানতে পারছেন না। এ নিয়ে তারা পারিবারিকভাবে কষ্ট ও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নলি মিয়া পাইক মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের বকুলতলা থেকে শনির আখড়ায় পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছে এসেছেন। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান মঙ্গলবার রাতে বলেন, তিনি এ ধরনের একটি বিষয় স্থানীয়ভাবে শুনেছেন। তবে এর বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি। সরকারিভাবেও কিছু জানানো হয়নি। তিনি খোঁজ–খবর নিচ্ছেন।












