ইবনে সিনা হাসপাতালে নারীর মৃত্যু, তদন্তে কমিটি

| বৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ, ২০২৪ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের অবহেলায় কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে পলি সাহা নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর স্বামী। ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ানকে প্রধান করে চার সদস্যের এ কমিটি করেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

পলি সাহা গত সোমবার সকাল ৯টায় সন্তান প্রসবের জন্য কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেদিন বেলা আড়াইটার সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি সন্তান জন্ম দেন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করে। গতকাল বুধবার পলি সাহার স্বামী আশিষ রায় অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার স্ত্রী মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন সময়ের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সন্তান জন্মদান এবং পরবর্তীতে আরও একটিমোট দুটি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে পলি সাহার। দুটি অস্ত্রোপচারেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসকরা এটা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের গাফিলতি ছিল। তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে পলির অপারেশন হয়। অপারেশনের পর ডাক্তার বলে বাচ্চা ঠিক আছে, মাও ঠিক আছে। এরপর তাদের পোস্ট অপারেটিভ রুমে দেয়। আমি তখন জিজ্ঞেস করি তার অবস্থা কেমন? তখন চিকিৎসকরা জানান, পলি ভালো আছে, তবে একটু ব্লিডিং হচ্ছে। ৬টার দিকে আবার জিজ্ঞেস করলে তারা একই উত্তর দেয়।’ আশিষ বলেন, ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে জানান, পলিকে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। পলি যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন সেই চিকিৎসক ডা. শারমিন মাহমুদ বলেন চিন্তার কোনো কারণ নেই। রাত নয়টায় আমি পলির কাছে জানতে চাই তার কেমন লাগছে। সে বলে তার কেমন জানি লাগছে। সে বাঁচবে না। আমি ডাক্তারের কাছে জানতে চাই প্রকৃত অবস্থা কী? তখন ডাক্তার বলেন, রোগীর ব্লিডিং হচ্ছিল সেটা কমে গেছে, কোনো শঙ্কা নেই। কিন্তু ব্লাড প্রেশার কমে গেছে, আপডাউন করছে।’ এরপর মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে আশিষকে ফোন করে শারমিন মাহমুদ জানান পলির অবস্থা খুব খারাপ। আইসিইউতে নিতে হবে। সকাল ৬টায় ডা. শারমিন হাসপাতালে এসে পলিকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। এরপর সকাল ৭টার পর অস্ত্রোপচার করে পলির জরায়ু ফেলে দেয়। বিকেল চারটায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ডা. শারমিন মাহমুদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পরপর রোগীর অবস্থা ভালোই ছিল। কিন্তু পোস্ট অপারেটিভ রুমে নেওয়ার পর তার রক্তপাত শুরু হয়। খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য
পরবর্তী নিবন্ধড. আবু রেজা নদভীর ২য় ধাপে ইফতার সামগ্রী বিতরণ শুরু