সারাদিনের রোজার পর ইফতারের টেবিলে একটু ভিন্ন স্বাদ চাইছেন অনেকে। চনা ছোলা–পেঁয়াজু–জিলাপির বাইরে নতুন কিছু, আবার পরিবারের সবার পছন্দ একসঙ্গে মেটানোর সুযোগ–এই দুই চাহিদাকে সামনে রেখে জিইসি মোড়ে দি প্যাভিলিয়ন রেস্টুরেন্ট সাজিয়েছে ৫৩টিরও বেশি পদের ব্যুফে ইফতার ও ডিনার আয়োজন। দেশি–বিদেশি খাবারের সমন্বয়ে বড় পরিসরের মেন্যু, সঙ্গে ফ্যামিলি প্লেটার ও টেকওয়ে সুবিধা–সব মিলিয়ে রমজানে এটি হয়ে উঠেছে নগরবাসীর আকর্ষণীয় গন্তব্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত রেস্টুরেন্টটিতে ইফতারের আগেই ভিড় বাড়তে থাকে। প্রবেশপথ পেরোতেই সুবিন্যস্ত ডাইনিং স্পেস। ডান পাশে সাধারণ ডাইনিং জোনে সারিবদ্ধভাবে সাজানো অসংখ্য পদ, আর বাম পাশে আলাদা রেস্টুরেন্ট সেকশন। পুরো পরিবেশেই রয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও আরামদায়ক আবহ, যা পরিবার নিয়ে ইফতার করতে আসা অতিথিদের জন্য স্বস্তিদায়ক।
ব্যুফে মেন্যুতে খাসি, গরু ও মাছের বিভিন্ন পদসহ একাধিক ধরনের বিরিয়ানি রাখা হয়েছে। রয়েছে স্পেশাল হালিম, শাহী হালিম, কাবাব, গ্রিল আইটেম, দেশি–বিদেশি ও নানা ধরনের খাবার। ইফতারের পরিচিত ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি ও রেশমি জিলাপিও রয়েছে আলাদা যত্নে প্রস্তুত। রাঁধুনিরা পরিচিত স্বাদে সামান্য ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছেন।
ডেজার্ট সেকশনও কম আকর্ষণীয় নয়। ১৫টিরও বেশি মিষ্টান্নের মধ্যে রয়েছে পুডিং, পেস্ট্রি, ফলের সালাদসহ নানা ধরনের ডেজার্ট। অনেকেই ইফতারের পর ডিনার পর্যন্ত থেকে যাচ্ছেন। ফলে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন, যা রমজানের আবহকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে।
শুধু ব্যুফে নয়, রয়েছে ফ্যামিলি প্লেটার বা ‘বিয়ের ডালা’ সার্ভিস। স্পেশাল কাবাব প্লেটার ২ হাজার ৪০০ টাকায়, স্পেশাল ইফতার প্লেটার ৩ হাজার ৫০০ টাকায়, বিরিয়ানি প্লেটার ৪ হাজার ২০০ টাকায় এবং শাহী প্লেটার ৪ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া টেকওয়ে সুবিধার জন্য রয়েছে ‘প্যাভিলিয়ন স্পেশাল ইফতার বক্স’, যার মূল্য ৫৭০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। অফিস শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই এই বক্স নিচ্ছেন বলে জানান কর্মীরা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যুফে ইফতারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ টাকা। তবে প্রি–বুকিং এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের কার্ডহোল্ডারদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। ডিসকাউন্টের পর ১ হাজার ৩০০ টাকায় ব্যুফেতে অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলছে।
ইফতার করতে আসা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এক জায়গায় এত ধরনের আইটেম পাওয়া– সত্যিই ভালো লেগেছে। পরিবারের সবাই নিজেদের পছন্দমতো খাবার নিতে পারছে। পরিবেশটাও বেশ আরামদায়ক।
আরেক অতিথি আবুল হাসান জানান, ইফতার ও ডিনার একসঙ্গে করার সুযোগ থাকায় ব্যস্ত মানুষের জন্য এটি সুবিধাজনক। বিশেষ করে শিশুদের জন্য আলাদা খাবারের বৈচিত্র্য থাকায় পরিবার নিয়ে আসা সহজ হচ্ছে।
রেস্টুরেন্টের পরিচালক (অপারেশন) আবু তাহের বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যুফে আয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ বছর ধরে প্যাভিলিয়ন গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখেছে। মান বজায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় মেন্যু, আরামদায়ক পরিবেশ ও সেবার সমন্বয়ে দি প্যাভিলিয়ন রেস্টুরেন্টের রমজানের ইফতার আয়োজন এখন নগরের আলোচনায়। সারাদিনের রোজার পর স্বস্তিতে বসে পরিবারসহ নানা স্বাদের খাবার উপভোগের সুযোগই যেন এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ।









