ইফতার ও সেহরিতে বিশেষ মেনু, প্রস্তুত নগরীর রেস্টুরেন্টগুলো

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নতুন স্বাদ ও পরিবেশনায় প্রস্তুত হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলো। ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র করে বাহারি খাবারের মেনু, বিশেষ বুফে আয়োজন, পারিবারিক প্যাকেজ এবং অনলাইন অর্ডার সুবিধাসহ নানা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি, যাতে রোজাদাররা স্বাচ্ছন্দ্যে স্বাস্থ্যসম্মত ও বৈচিত্র্যময় খাবার উপভোগ করতে পারেন। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক নানা পদ যুক্ত করা হচ্ছে মেনুতে।

গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন হোটেলরেস্টুরেন্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, ইফতারে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, হালিম ও খেজুরের মতো প্রচলিত আইটেমের পাশাপাশি থাকছে গ্রিল, কাবাব, বিরিয়ানি, বিভিন্ন শরবত ও ডেজার্ট। অনেক প্রতিষ্ঠান পারিবারিক বুফে, করপোরেট ইফতার প্যাকেজ এবং গ্রুপ বুকিংয়ে বিশেষ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে।

সরেজমিনে নগরীর লালখান বাজার, জিইসি, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ইতোমধ্যে রমজান উপলক্ষে বিশেষ মেনু প্রস্তুত করেছে। লালখান বাজারের পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে দেশি, ভারতীয় ও ইন্দোনেশিয়ানসহ ৪০টির বেশি পদ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন সীমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করায় দুপুরের পর থেকেই অনেক আইটেম শেষ হয়ে যায়। দেশি ইফতার সামগ্রীর পাশাপাশি বিদেশি আইটেমের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান চিকেন স্যাটে গ্রাহকদের বিশেষ আগ্রহ পাচ্ছে। নগরীর জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট কপার চিমনিতেও রমজান উপলক্ষে প্লেটার, টেকঅ্যাওয়ে সেট, পার্টি মেন্যু ও বিরিয়ানির বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। আগ্রাবাদ, জিইসি ও চকবাজারের শাখাগুলোতে দেশি ও আরবিয়ান খাবারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নও যুক্ত করা হয়েছে মেনুতে। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়মিত আয়োজনের সঙ্গে রমজান উপলক্ষে বাড়তি কিছু পদ ও মূল্যছাড় যুক্ত করা হয়েছে।

একইভাবে জিইসি এলাকার বনজৌর রেস্টুরেন্টে ৫৫টির বেশি পদ নিয়ে বুফে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী আইটেমের সঙ্গে সৌদি, ভারতীয়, থাই, চাইনিজ ও পশ্চিমা খাবারও রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রাহকদের পছন্দের বৈচিত্র্য মাথায় রেখে তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে বেশি আইটেম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে পরিবারসহ স্বাচ্ছন্দ্যে ইফতার করা যায়।

এদিকে নতুন হলেও দ্রুত পরিচিতি পাওয়া কুক আউট রেস্টুরেন্ট রমজানে বিশেষ ইফতার থালি ও সেট মেন্যু চালু করছে। বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় নতুন কিছু আইটেম যুক্ত করা হয়েছে এবং স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগরীর বাসিন্দাদের মতে, রমজানে পরিবারপরিজন ও সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার আয়োজন এখন সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিবছরই এই সময় রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় ও বেচাকেনা বাড়ে।

রেস্টুরেন্ট মালিকরা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলে এবারের রমজান মৌসুমে ব্যবসা ভালো হবে এবং রোজাদারদের জন্য সুস্বাদু ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাচ্ছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করবেন