ইউরোপ সঠিক পথে এগোচ্ছে না, গ্রিনল্যান্ড দখলে আলোচনা চাই

দাভোসের ভাষণে ট্রাম্প

| বৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি নিয়ে সংঘাতের আবহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে পৌঁছে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণের শুরুতেই ইউরোপকে বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপ সঠিক পথে এগোচ্ছে নাবললেন তিনি। ইউরোপ তার কাছে অচেনা ঠেকছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমি ইউরোপকে ভালোবাসি। আমি চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু ইউরোপ সঠিক পথে চলছে না।

গতকাল বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সেখানে সফর করছেন ট্রাম্প। ফোরামের মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন তিনি। তার এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতুহল এবং উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, সমপ্রতি ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ইউরোপের সঙ্গে টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে ভাষণে তিনি গ্রিনল্যান্ডসহ অন্য বিভিন্ন বিষয়ে কী বার্তা দেন সেদিকেই নজর বিশ্ব নেতাদের।

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই এবার প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্প দাভোসের মাটিতে পা দিতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত নয়, সবচেয়ে শক্তিশালীর কথার কাছে মাথা নত করা। তবে ভাষণে ট্রাম্প ফের গ্রিনল্যান্ডকে জাতীয় কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে দেশটি অনেক বেশি অর্থ আয় করতে পারবে মাত্র আগামী ৬ মাসেই, যা তারা ২০ বছরেও পারেনি। তার প্রেসিডেন্সির আমলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, (যুক্তরাষ্ট্রের) হামলা শেষের পর তারা (ভেনেজুয়েলা) চুক্তি করার কথা বলেছে। আরও অনেকেরই সেটা করা উচিত।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার ক্ষমতার এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক বাণিজ্য ঘাটতি ৭৭ শতাংশ কমিয়ে এনেছেন তিনি। মুদ্রাস্ফীতিও বাড়েনি। যেটি করা সম্ভব ছিল না বলে মত দিয়েছিল প্রত্যেকেই। অংশীদারদের সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি করেছেন বলেও বক্তব্যে জানান ট্রাম্প। তেল ও গ্যাস নিয়ে এসব চুক্তি হয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। এর ফলে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই নয় চুক্তি করা দেশগুলোরও শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়েছে এবং সম্পদ বেড়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেন। খবর বিডিনিউজের।

গ্রিনল্যান্ড দখলে অবিলম্বে আলোচনা চাই, শক্তি প্রয়োগ করব না

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে অবিলম্বে আলোচনা চান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন না। ট্রাম্প বলেন, আমি আরও একবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা চাইছি। ঠিক যেমনটি আমরা আমাদের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য ভূখণ্ড অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে করেছি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হলেও বুধবার তা প্রশমিত করার চেষ্টা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে চান না। তিনি বলেন, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আমরা হয়ত কিছুই পাব না। আর শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিলে আমাদেরকে স্পষ্টতই ঠেকানো যাবে না। কিন্তু আমি তা করব না। শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন নেই, আমি তা চাই না। আমি সেটি করবও না।

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ট্রাম্প ‘বড় ও সুন্দর এক টুকরো বরফ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। ট্রাম্পের মতে, লিজ বা চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন পূর্ণ মালিকানা। ভাষণে তিনি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও ডেনমার্ককে অকৃতজ্ঞ বলে সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেটো মিত্রদের রক্ষা করে আসছে, অথচ তার বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুই দেয়নি। ট্রাম্প দাবি করেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নেটোর জন্য কোনো হুমকি নয়, বরং এটি পুরো সামরিক জোটের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। নেটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে এ সময় দর্শকদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প তাকে ইঙ্গিত করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই আছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগুণ্ডামির কাছে মাথা নত করি না আমরা
পরবর্তী নিবন্ধমেধা নিয়ে গর্ব করার সুযোগ নেই জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে