ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিস

হামের টিকা

| মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

হামের টিকাদানকে বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ এনে মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিস পাঠান। খবর বিডিনিউজের।

দেশে সমপ্রতি হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে নোটিসে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য শিশু ও সাধারণ নাগরিক আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হামের মতো টিকাদান ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে ‘বেসরকারি খাতে দেওয়ার অশুভ ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ডের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, এম সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা। এছাড়া সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সব সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে ।

আদালতে না গিয়ে সরাসরি সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিবদের কাছে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নোটিস পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে রিটকারী আশরাফুল বলেন, এটি মূলত নির্বাহী বিভাগের কাজ এবং প্রথম ধাপে তাদেরই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কাউকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগই দায়িত্বপ্রাপ্ত। আদালত পরে আসে যখন কোনো আবেদন করা হয় এবং দুই পক্ষ শুনে আদেশ দেয়। সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগ ঠেকাতেই নির্বাহী বিভাগকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্বাহী বিভাগকে জানিয়েছি, যাতে এই ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতরা দেশ থেকে পালাতে না পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগের কথা বলেন। টিকাদান কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগে যেভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামের টিকা দেওয়া হতো, সেই কার্যক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে আমাদের দেশে হামের টিকা ঘরে ঘরে গিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন সেটি করা হচ্ছে না এটা (বেসরকারিকরণ) ডেলিবারেটলি করা হয়েছে। আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে টিকাদান ব্যবস্থা জোরদার না করে বেসরকারি খাতে নির্ভরতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে যাতে মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে টিকা কিনতে বাধ্য হয় এবং এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লাভ করা যায়। নোটিস পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিবাদীরা পদক্ষেপ না নিলে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যারিস্টার আশরাফুল বলেন, নির্বাহী বিভাগকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই পাঁচ দিনের মধ্যে যদি তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আদালতে রিট পিটিশন করব। সেটাই হবে দ্বিতীয় ধাপ। প্রয়োজনে পরবর্তী ধাপে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “সবচেয়ে শেষ ধাপ হলো জনগণ। জনস্বার্থে এ নোটিস পাঠানোর কথা বলেছেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ মওকুফে ১,৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
পরবর্তী নিবন্ধসুরধ্যানের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান কাল