চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যহার, আয়কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত অভিযোগ বিষয়ে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রমও শুরু করেছে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় আ জ ম নাছির উদ্দিন, তার স্ত্রী শিরিন আকতার, মেয়ে ফাহমিদা তাসনিম নওশিন ও ছেলে আবু সাদিক মোহাম্মদ তামজিদের নামে নগরীর দি চিটাগাং কো–অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডে কোন প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি, দোকান বা অন্য কোন সম্পত্তি আছে কি–না, থাকলে সে সবের মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র চেয়ে উক্ত হাউজিং সোসাইটির সম্পাদক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপ–সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হামেদ রেজা স্বাক্ষরিত চিঠিতে আ জ ম নাছির উদ্দীনের স্ত্রী শিরিন আকতারের নামে থাকা নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ২নং রোডের গোল্ডিং নং–২১২৪, ফ্ল্যাট নং–সি–৮ (১০ তলা বিশিষ্ট ভবন) এর মালিকানা সংক্রান্ত দলিল, খতিয়ান, চুক্তিপত্র বা মূল্য পরিশোধ সংক্রান্ত ভাউচার–রশিদও চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যহার, আয়কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে এসব তথ্য বা রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দুদকসূত্র জানায়, আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যহার, আয়কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠার পর উক্ত অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক কমিশন বরাবর অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। এতে টিম লিডার হিসেবে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন ও টিম সদস্য হিসেবে আছেন একই কার্যালয়ের উপ–সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হামেদ রেজা। এছাড়া টিমটিতে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন কার্যালয়টির উপ–পরিচালক সুবেল আহমেদ। দুদক কর্মকর্তা মুহাম্মদ হামেদ রেজা গতকাল সন্ধ্যায় দৈনিক আজাদীকে বলেন, আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যহার, আয়কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচারের একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে আ জ ম নাছির উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন আকতারের নামে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ২ নং রোডের গোল্ডিং নং–২১২৪, ফ্ল্যাট নং–সি–৮ (১০ তলা বিশিষ্ট ভবন) এর মালিকানা সংক্রান্ত দলিল, খতিয়ান, চুক্তিপত্র বা মূল্য পরিশোধের ভাউচার–রশিদ চেয়ে হাউজিং সোসাইটির সম্পাদক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিরিন আকতার, আ জ ম নাছির উদ্দীন, তাদের দুই ছেলে–মেয়ের নামে উক্ত হাউজিং সোসাইটিতে আরো প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি বা দোকান আছে কি–না? থাকলে মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেকর্ডপত্র সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা মুহাম্মদ হামেদ রেজা।
অনুসন্ধান কার্যক্রম কোন পর্যায়ে রয়েছে, এখন পর্যন্ত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কী কী তথ্য পাওয়া গেছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুসন্ধান কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়েছে। তবে কী কী তথ্য–উপাত্ত পাওয়া গেছে সে বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা সংশ্লিষ্ট সব রকম তথ্য–উপাত্ত পাওয়ার পর বিচার–বিশ্লেষণ করব। এরপর কমিশন বরাবর অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। উল্লেখ্য, আ জ ম নাছির উদ্দীন দি চিটাগাং কো–অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে সভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায় (সিজেকেএস) সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার সময়ে হওয়া এ দুটি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, অনিয়মের পৃথক দুটি অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।












