আয়ু ক্ষয় নয়, আয়ুর যথাযথ ব্যবহারের নামই জীবন

খালেদা লিপি | শনিবার , ৭ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

যেটুকু আয়ু নিয়ে আমরা জন্মাই তা আসলে কম নয়। আমরা আয়ু কমের অভিযোগ করি কারণ আমাদের সময় জ্ঞান নেই। কতো বয়স থেকে কি করতে হবে তা আমাদের জানতে দেরী হয়ে যায়। তাই আয়ুর দোষ দিই। মুখ্য বিষয় হলো, আমাদের শিশুকাল থেকে সময়ের মূল্য শেখা চাই। শিশুকালে সময়ের মূল্য শেখা কিন্তু শিশুদের উপর বর্তায় না। শিক্ষিত, জ্ঞানী,মনুষ্যত্ব বোধে সম্পন্ন পিতামাতা না হলে কোন শিশুই শিশুকাল থেকে যথার্থ সময় জ্ঞান নিয়ে বেড়ে উঠবে না। একজন পরিপূর্ণ মানুষ গড়ে তোলার ভূমিকা শুরু হয় পরিবার থেকে, পিতামাতা হতে। জীবনের প্রতিটি ধাপে যদি সঠিক পথ বুঝে না চলা যায় এবং বিবেক, বোধ সম্পন্ন মানুষের দেয়া পথ অনুসরণ করতে না পারা যায় তাহলে একটা নিদিষ্ট সময় রসাতলে যাবে।তারপর যখন পরিবার তথা পিতামাতার আদর্শ পথ পাড়ি দিয়ে নিজের জ্ঞান, বিবেক কাজে লাগিয়ে পথ চলা শুরু করে তখনই একটা মানুষের জন্য আয়ুর যথার্থ ব্যবহার ঘটে। সত্য মানুষ হবার জন্য যেমন অনেক অনেক একাডেমিক শিক্ষা জরুরি নয়। আবার সাম্যর্থ থাকলে একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলাও অবশ্যই জরুরী। তবে একটা মানুষের মানুষ হয়ে উঠার জন্য সবচেয়ে জরুরী মনুষ্যত্ব বোধ তা কেবল পরিবার, পিতামাতা এবং নিজেকে নিজের অস্তিত্বে ধারণ করতে হবে। অধিক আয়ুর চেয়ে জরুরী হলো যে আয়ুটুকু পাওয়া হলো তা সঠিক ভাবে জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে বন্টনের মাধ্যমে নিজেকে পৃথিবীর জন্য, মানব কল্যাণের জন্য অথবা ন্যূনতম সঠিক মানুষ হিসেবে নিজের পরিবারকে সন্তুষ্ট রাখার মাধ্যমে সেই আয়ুটুকু ব্যয় করা। তাহলে আর অল্প আয়ু নিয়ে আমাদের আফসোস থাকবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅসমাপ্ত ভালোবাসার দিন
পরবর্তী নিবন্ধপবিত্র মাহে রমজানে ইতেকাফ