চট্টগ্রামের ৩য় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুন নূর (লিটন) মারা যান গত জানুয়ারির ১৩ তারিখ। এরপর অতিবাহিত হয়ে গেছে দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস। এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আদালতটির দৈনন্দিন বিচারিক কার্যাবলী ও জরুরি শুনানিগুলো ৪র্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক দেখভাল করে আসলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলছেন আইনজীবীরা। অতিরিক্ত মামলার চাপে ৪র্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারকের পক্ষে দুই আদালতের কাজ পুরোদমে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ফৌজদারি অপরাধ বিচারের জন্য মহানগর দায়রা আদালতের পাশাপাশি ১১ টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালত ও ৭ টি যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালত রয়েছে। সবমিলে আদালতের সংখ্যা ১৯ টি। এরমধ্যে ৩য় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতে ( অপর ৬টি যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতেও) দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির যেসব অপরাধের শাস্তি ১০ বছরের কম, সেসব অপরাধের বিচার কাজ পরিচালিত হয়। এমন ৪ হাজারেও বেশি মামলা আদালতটিতে বিচারাধীন রয়েছে। নতুন করে বিচারক নিয়োগ না হওয়ায় এসব মামলার বিচারে স্বাভাবিকভাবেই বিলম্ব দেখা দিবে জানিয়ে অ্যাডভোকেট মিঠুন বিশ্বাস দৈনিক আজাদীকে বলেন, অপর একটি আদালতের বিচারক চার্জে রয়েছে, এর অর্থ সংশ্লিষ্ট আদালতটির মামলা নিয়ে কোন চিন্তার কারণ নেই–এমনটা বলা যাবে না। যে বিচারক চার্জে রয়েছেন, তাঁর নিজের আদালতের দৈনন্দিন বিচার কাজও এগিয়ে নিতে হয়। দুই আদালতের কাজ এক বিচারক দিয়ে কোনভাবেই চলতে পারে না। পুরোদমে বিচারিক কাজ পরিচালনায় যেতে হলে ৩য় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় বিচারপ্রার্থীদের ক্ষতি হবে, তাদের ভোগান্তি বাড়বে।
এ বিষয়ে ৩য় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ওমর ফারুক দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের বিচারক গত জানুয়ারি মাসে মারা গেছেন। এরপর থেকে আমাদের বিচারক নেই। নতুন কাউকে এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ৪র্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক বর্তমানে আমাদের মামলাগুলোর বিচার কাজ পরিচালনা করছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, আপস মীমাংসা থেকে শুরু করে রায় ঘোষণা, তিনি করছেন। প্রতিদিনই কোন না কোন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রায়ও ঘোষণা হয়েছে বেশ কিছু। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর শুনানি অবশ্যই হচ্ছে। তবে বিচারাপ্রার্থীদের কিছুটা তো সমস্যা হচ্ছেই। পুরোদমে বিচার কাজ পরিচালনায় নতুন বিচারক নিয়োগ হওয়ার বিকল্প নেই। আশা করছি, শিগগির নতুন বিচারক নিয়োগ হয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিচারকের স্বল্পতা তো রয়েছেই। আদালত কক্ষের স্বল্পতাও রয়েছে। দেখা যায় যে, একটি আদালত কক্ষ কয়েকজন বিচারক পালা করে ব্যবহার করছেন। বিচারক নিয়োগ ও আদালত কক্ষের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি আমাদের সবসময় থাকে। তিনি বলেন, ৩য় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতে বিচারক না থাকায় ভোগান্তির বিষয়টি স্বাভাবিক। অপর একজন বিচারক চার্জে থাকলেও অতিসত্বর নতুন বিচারক নিয়োগ দিয়ে দিলে সেই ভোগান্তি আর থাকবে না। আদালতের নানা সমস্যা, সংকট নিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বরাবর নিয়মিত আবেদন করা হয় বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ৩য় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুন নূর (লিটন) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।













