দোহাজারীতে প্রকাশ্যে একটি পাহাড়ের সিংহভাগ কেটে সাবাড় করেছে পাহাড় ও মাটি খেকোরা। চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী হাফছড়িকুল পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু দোহাজারী জামিজুরী এলাকা নয়, পুরো চন্দনাইশের পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড় কাটছে মাটিখেকোরা। এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহের পাশাপাশি ফসলি জমি ও ভিটে ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেআইনিভাবে পাহাড় কাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
এদিকে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহন করতে গিয়ে বেহাল অবস্থা দোহাজারী পৌরসভার অধীনে প্রথম কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাফছড়িকুল আরসিসি সড়কটির। মাটিবাহী ডাম্পার চলাচলের কারণে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দেবে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। তবে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও চন্দনাইশে তা মানা হচ্ছে না। প্রচলিত আইন অমান্য করে পাহাড় কাটায় ক্ষোভ জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে দিনরাত সমান তালে কাটা হয় পাহাড়। পাহাড় কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায় এবং ফসলি জমি ও ভিটে ভরাট করার কাজে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও থামছে না পাহাড় কাটা। এভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পবিরেশবাদীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী হাফছড়িকুল এলাকাটি পাহাড় ঘেরা একটি গ্রাম। এ গ্রামের বটগাছ তলা এলাকায় কোন প্রকার বাধাহীনভাবে আনুমানিক ২ একরের একটি পাহাড়ের সিংহভাগ কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি প্রভাবশালী মহল প্রকাশ্যে পাহাড়টি কেটে মাটি ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে কর্তন করা পাহাড় ধসে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এ অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। অবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দীন বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর সবসময় তৎপর রয়েছে। দোহাজারীতে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত রির্পোট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন র্কর্তপক্ষের নিকট প্রেরণ করার প্রস্তুতি চলছে। নতুন করে পাহাড় কাটার সংবাদ পেলে অভিযান পরিচালনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নিয়ম না মেনে পাহাড় কাটার সুযোগ নেই। প্রচলিত আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চন্দনাইশ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রাজিব হোসেন বলেন, জামিজুরী হাফছড়িকুল এলাকায় পাহাড় কর্তনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বলা হয়েছে। অতি দ্রুত ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।










