আসাদের পতন : মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কেমন হবে?

| সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ at ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ

বিদ্রোহীদের আচমকা বিদ্যুৎগতির আক্রমণে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের ২৪ বছরের দুঃশাসন অবসানের পর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন রূপ নেবে। খবর বিডিনিউজের।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা হুগো বাচেগা এমন বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেছেন, সিরিয়ার নাটকীয় পট পরিবর্তনের ফলে সেখানে ক্ষমতায় বিপজ্জনক শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা এবং আরও সহিংসতার জন্ম দেবে। এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের ইদলিবের ঘাঁটি থেকে যখন বিদ্রোহীরা হঠাৎ আবার হামলা শুরু করেছিল তখনও আসাদ সরকারের পতন অচিন্তনীয় ছিল। এই হামলাই ছিল সিরিয়ার ইতিহাসের বাঁক বদলের সূচনা।

২০০০ সালের পর বাবা হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন বাশার আল আসাদ। ছেলের মতো হাফিজ আল আসাদও ছিলেন কঠোর শাসক। তিনি ২৯ বছর সিরিয়া শাসন করেছিলেন। বাশারও বাবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও দমনমূলক রাজনৈতিক কাঠামো বজায় রেখেছিলেন। যদিও ক্ষমতাগ্রহণের পর সিরিয়ার মানুষ আশা করেছিল তিনি আলাদা মনোভাবের হতে পারেন, ঠিক বাবার মতো নয়। হবেন অনেক বেশি খোলামেলা এবং কম নৃশংস। কিন্তু মানুষের সেই আশা ছিল স্বল্পস্থায়ী। ২০১১ সালে বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নৃশংসভাবে দমন করার কারণে আসাদকে সিরিয়ার মানুষ চিরকাল মনে রাখবে। কারণ, এরপরই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো ৬০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে শরণার্থী হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে বাশার বিদ্রোহ গুঁড়িয়ে দিয়ে এতোদিন ক্ষমতায় টিকেছিলেন। রাশিয়া তার প্রতাপশালী বিমানবাহিনী ব্যবহার করেছে, ইরান সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। আর প্রতিবেশী লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের প্রশিক্ষিত যোদ্ধা পাঠিয়েছে আসাদ বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য।

কিন্তু এবার মিত্রদের তেমন কোনও সহায়তাই পায়নি আসাদ সরকার। কারণ মিত্ররা তাদের নিজেদের সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত এখন। রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর সেখানে যুদ্ধ করছে। গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে গতবছর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায়, যা এখনো চলছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানেরও পাল্টাপাল্টি কিছু হামলা হয়েছে। এরপর ইরান ইসরায়েলকে মোকাবেলা করা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সিরিয়ায় নতুন সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায়নি।

মিত্রদের সহায়তা না পাওয়ায় ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠি হায়াত তাহরির আলশাম এর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যত কোথাও কোথাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি আসাদের সেনারা। আবার কোথাও কোথাও বাধা না দিয়ে তারা পালিয়ে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিরিয়ায় হুমকির মুখে রুশ ঘাঁটি দামেস্কে ইরানি দূতাবাসে হামলা
পরবর্তী নিবন্ধস্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত রুখে দেয়া হবে