আসনটি একে অপরকে ছেড়ে দিতে নারাজ জামায়াত-এনসিপি

চট্টগ্রাম-৮

মোরশেদ তালুকদার | মঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপির নির্বাচনী সমাঝোতায় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম৮ আসন (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক)। কারণ জামায়াতএনসিপি কেউ আসনটি একে অপরকে ছেড়ে দিতে নারাজ। ফলে দেশের অন্যান্য সংসদীয় আসনগুলো নিয়ে প্রায় সমঝোতায় পৌঁছুলেও তা আটকে আছে চট্টগ্রাম৮ এ। সমঝোতা হলে আসনে জোটের একজন প্রার্থী রেখে বাকিদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে। জামায়াত ও এনসিপি’র একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে এই একটি মাত্র আসনেই (চট্টগ্রাম) প্রার্থী দিয়েছে এনসিপি। যদি আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দিতে হয় সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের নির্বাচনী মাঠে এনসিপি’র কোনো প্রতিনিধি থাকবে না। অর্থাৎ এ আসনে জামায়াতকে ছেড়ে দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের কোনোটিতেই সরাসরি এনসিপি’র কোনো প্রার্থী থাকবে না। যা দলটির তৃণমূলের কর্র্মীরা মানতে নারাজ।

এদিকে জামায়াত ইসলামী শুরু থেকেই বলে আসছে চট্টগ্রাম৮ আসনে নিজেদের অবস্থান শক্ত রয়েছে। ফলে দলটির তৃণমূলের চাওয়া ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকুক জামায়াতের প্রার্থী। তাছাড়া চট্টগ্রাম শহরের চারটি আসনের মধ্যে একটি (আংশিক) চট্টগ্রাম৮। চট্টগ্রাম(কোতোয়ালীবাকলিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শহরে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চট্টগ্রাম৮ আসনকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন ডা. মো. আবু নাছের ও জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপি’র প্রার্থী হচ্ছেন মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। এছাড়া জামায়তের সঙ্গে নির্বাচনী সমাঝোতায় গড়ে উঠা ১১ দলীয় জোটভুক্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল আলম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহও প্রার্থী আছেন। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হচ্ছেন এরশাদ উল্লাহ।

উল্লেখ্য, শুরুতে ইসলামপন্থী ৮টি দল নিয়ে নির্বাচনী সমাঝোতায় জোট হয়। দলগুলো হচ্ছেবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরবর্তীতে এই জোটে যোগ দেয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। ফলে জোটভুক্ত দল হয় ১১টি।

জানা গেছে, এই ১১ দলের শীর্ষ নেতারা কয়েকদিন ধরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করছেন। প্রাথমিকভাবে জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রাখতে চায়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বিডিপিকে ২টি আসনে ছাড় দিতে চায়। তবে এখানে চট্টগ্রাম৮ আসনটি জামায়াত রাখতে চাইলেও আপত্তি আছে এনসিপির।

সমাঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান আজাদীকে বলেন, সমাঝোতায় শরীক দলের জন্য সম্মানজনক এবং জাতির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক একটি নির্বাচনী সমাঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম৮ আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমাঝোতা হচ্ছে কীনা জানতে চাইলে এনসিপি চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ও চট্টগ্রাম৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামে এনসিপি’র একটা মাত্র আসন হচ্ছে চট্টগ্রাম৮। এ আসন নিয়ে সমাঝোতা হচ্ছে। এখানে এনসিপিই থাকবে। এটা নিয়ে ঘোষণা আসবে, তখন সবকিছু স্পষ্ট হবে।

তিনি বলেন, আমাদের একটা প্রিপারেশন আছে, জামায়তে ইসলামীরও একটা প্রিপারেশন আছে, অন্যান্য জোটেরও প্রিপারেশন আছে। সবগুলো যখন এক জায়গায় আসবে তখন বড় ধরনের হিট হবে। এই জোয়ারে বিএনপি ভেসে যাবে।

এর আগে এনসিপি কেন্দ্রীয়ভাবে চট্টগ্রামের ৯টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও চট্টগ্রাম৮ ছাড়া অন্য কোনো আসনে ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা না দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের পার্টির সিদ্ধান্ত ছিল, চট্টগ্রাম থেকে আমরা শুধুমাত্র একটি আসনেই জমা দেব।

সমাঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের আজাদীকে বলেন, আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছে। কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। জনগণের কাছে যাচ্ছি। এখানে আমাদের অবস্থান অনেক ভালো।

এনসিপি’র যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেন, ‘হয় চট্টগ্রাম৮ দিবেন। না হয় চট্টগ্রামে কোনো এনসিপি থাকবে না’।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফে এবার মাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন
পরবর্তী নিবন্ধপ্রার্থিতা ফিরে পাননি কোতোয়ালীর জামায়াত প্রার্থীসহ ৩ জন