বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার কাছে আশা ভোঁসলে কেবল একজন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন অন্তরের স্বজন। ভারতীয় উপমহাদেশের এই প্রখ্যাত শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে রুনা লায়লা বলেছেন, আশাজির মৃত্যুতে সংগীতজগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। রুনা লায়লা গ্লিটজকে বলেন, উনার সঙ্গে আমার অন্তরের সম্পর্ক ছিল, পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে আসবে না। খবর বিডিনিউজের।
রুনা লায়লার সুর করা ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’ গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। একটি টেলিভিশন স্টেশনের সাক্ষাৎকারে সেই গানটির পেছনের স্মৃতি তুলে ধরেছিলেন রুনা লায়লা। তিনি বলেছিলেন, আমি যার গান শুনে শুনে বড় হয়েছি, তার গান অনুকরণ করতাম, তার কাজগুলো অনুসরণ করতাম সেই মানুষকেই এবার আমি নিজের সুরে গান করাব, এটা ছিল অসাধারণ এক অনুভূতি। প্রথমে আশাজিকে ফোন করে প্রস্তাব দিতেই তিনি এক বাক্যে রাজি হয়ে যান, কোনো দ্বিধা ছিল না।
এক জীবনে কত গান : আট দশকের বেশি সময় ধরে ২০টি ভিন্ন ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান গেয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়া শিল্পী আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে সংগীতজীবনে পা রেখেছিলেন আশা ভোঁসলে। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল। প্রথম প্লেব্যাক করেন মারাঠি সিনেমায়। এরপর ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমায় ‘খাতু আয়া’ গানের মধ্য দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক শুরু। তিনি প্রথম এককভাবে হিন্দি গানে কণ্ঠ দেন ১৯৪৯ সালে। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ, গজলসহ বিভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করেন।
এছাড়া ৯১ বছর বয়সে তার প্রয়াত স্বামী সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে উৎসর্গ করে ‘সাইয়াঁ বিনা’ নামে একটি একক গান প্রকাশ করেন। ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’–এ ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে, পেয়েছেন ‘পদ্মবিভূষণ’। এসব সম্মাননার পাশাপাশি ১৯৮১ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমার তিনি প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পান, দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার তার ঘরে আসে ১৯৮৮ সালে ‘ইজাজত’ সিনেমার জন্য। এছাড়া ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন। গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।














