পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমা উপলক্ষে পালিত আল-কুদস দিবস উপলক্ষে আজ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সড়কে আল-কুদস কমিটি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের উদ্যোগে এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি, শাহাদাতের স্মরণে প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনি (রহ.) রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে “আল-কুদস দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ পবিত্র মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কণ্ঠ তুলতে পারে। সেই ঐতিহাসিক আহ্বানের ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে ইমরান (৩:১০৩) এ নির্দেশ দিয়েছেন: “তোমরা সবাই আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” বক্তারা বলেন, এই আয়াত মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষা এবং মজলুম মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলী আবারও প্রমাণ করেছে যে ফিলিস্তিন প্রশ্ন আজও মানবতার একটি বড় পরীক্ষা। গাজাসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সমর্থিত আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে এবং মজলুম জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত শহীদদের শাহাদাত গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং বলেন যে, এই রক্তের ধারা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডা. মোহাম্মদ আমির হোসেন, আঞ্জুমানে মুহিব্বানে এহলে বায়েত চট্টগ্রামের সভাপতি ম. নুরুল আফসার তৈয়বি, উপদেষ্টা শাহজাহান আলী, সৈয়দ ফিরাজ আলী আবেদি, হুজ্জাতুল ইসলাম ও ইমাম জামাত হালিশহর হুসেইন (আ:) ট্রাস্ট ইমামবারগাহ, মেহেদী হোসেন চৌধুরী, সভাপতি (কার্যনির্বাহী সদস্য) হালিশহর হুসেইন (আ:) ট্রাস্ট ইমামবারগাহ, চট্টগ্রাম।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সড়কে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় এবং পরে একটি প্রতিবাদী মিছিল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে চেরাগী পাহাড় হয়ে পুনরায় প্রেস ক্লাবে এসে সমাপ্ত হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত আরও জোরালো হবে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে একদিন মসজিদুল আকসা দখলমুক্ত হবে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে।












