আলোচনায় থেকেও বাদ পড়েছেন যারা

নতুন সরকার

| বুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৯ জনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন সরকার সাজিয়েছেন, সেখানে বাদ পড়েছেন বিএনপির অভিজ্ঞ নেতাদের কয়েকজন। গত কয়েকদিন ধরে যাদের নাম আলোচনায় থাকলেও মন্ত্রিসভা থেকে তারা বাদ পড়েন। তাদের মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আছেন। রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলীর নেতাও। বাদপড়াদের মধ্যে কয়েকজন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। তাদের অনেকে তারেকের বিদেশে নির্বাসনকালে এবং খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার সময় দলকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, বাদ পড়া সিনিয়রদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত পরবর্তীতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকবেন। খবর বিডিনিউজের।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আব্দুল মঈন খান তারেকের মন্ত্রিপরিষদে নেই। এই চারজন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ছিলেন। স্থায়ী কমিটির একজন বলেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ম্যাডামের সব কেবিনেটে ছিলেন। তারা প্রত্যাশিত ছিলেন। তবে নিশ্চয়ই চেয়ারম্যানের ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেন, মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাফিজ উদ্দিন খান মন্ত্রী হয়েছেন। এর বাইরে জমির উদ্দিন সরকার, সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খানের নাম নেই মন্ত্রীদের তালিকায়। তাদের মধ্যে জমির উদ্দিন সরকার শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে একজন সহকারী বলেন, তিনি কথা বলতে অপারগ।

বিএনপির একজন বলেছেন, নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সংক্রান্ত কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে মীর নাছির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তারা নেই।

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হওয়াদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রধান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কোনো নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়।

বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকারকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি তারা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী বাংলাদেশকে তারা নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য কামনা করি। মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুইতিনজন থাকছেন।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর, আমান উল্লাহ আমানও তারেকের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনা থাকলেও তাদের ঠাঁই জয়নি।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে থেকে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী করবেন। এ নিয়ে মতামতের কিছু নেই। মর্নিং শ্যোজ দ্য ডে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা
পরবর্তী নিবন্ধহিমাগারে ১০ লাখ কেজি খেজুর মজুদ