দীর্ঘদিন অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকার পর অবশেষ আলোকিত হয়ে উঠছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের রাতের চিত্র। নানা অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের টনক নড়ে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির। এরই অংশ হিসেবে গত ৮ নভেম্বর থেকে সংযোগ মেরামত ও নতুন হ্যালোজেন বাতি স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০টির মতো বাতি স্থাপন করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে সবকটি পোলে বাতি স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির তত্ত্বাবধায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। চারদিনে সৈকতের মূল স্থান লাবণী, সি–গাল ও সুগন্ধা পয়েন্টে কাজ করা হয়েছে। বাতি স্থাপনের পর লাবণী থেকে সুগন্ধা পর্যন্ত পুরো স্থান আলোকিত হয়ে গেছে। তিনি জানান, এখনকার লাইটগুলো অনেক উন্নতমানের। সহজে মরিচা ধরবে না। এগুলো জাহাজে ব্যবহার হয়। হ্যালোজেন বাতিগুলো ৭০০ ও ৪০০ ওয়াটের মধ্যে। এগুলো অনেক শক্তিশালী। পোল দেখে বাকি বাতিগুলো স্থাপন করা হবে। ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো এলাকা ক্লিয়ার করতে ১৫ থেকে ২০দিন সময় লাগতে পারে।
বাতি লাগানোর তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান বলেন, ইলেকট্রিকের তার, হোল্ডার, লোহার এঙ্গেল–সবখানে মরিচা ধরেছে। এগুলো পরিবর্তন করে নতুন করে কাজ শুরু করেছি। স্বল্পমূল্যে দীর্ঘমেয়াদী লাইটগুলো বসানো হলে সৈকত আলোকিত হবে। পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ঘুরাঘুরি করতে পারবেন। মেরামতের দায়িত্বরত ইলেকট্রিশিয়ান নুরুল আবছার বলেন, বৃষ্টিতে বিদ্যুতের তার, হোল্ডার নষ্ট হয়ে গেছে। এক পিলার থেকে অন্য পিলারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। প্রথম দিন ৬টি এবং পরবর্তী দুদিনে আরও ৯টিসহ মোট ১৫টি লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কঙবাজার রিজিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, অন্ধকারাচ্ছন্ন সৈকত ও ঝাঁউবনে দায়িত্বপালন করা কঠিন। গত কয়েক মাস পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক বেগ পোহাতে হয়েছে। বাতি বসানোর ফলে, এখন কাজে আরও গতি আসবে এবং সৈকতে রাতের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তাও জোরদার হবে।












