অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছিল এবারের ফিনালিসিমার ভাগ্য। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে উয়েফা। ইউরোপের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা রোববার সিদ্ধান্তটি জানায়। দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে আগামী ২৭ মার্চ লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের লড়াই হওয়ার কথা ছিল। এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি ও স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামালেরও। এখন সবকিছুই ভেস্তে গেল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের জবাব দিচ্ছে ইরানও। ইসরায়েলে হামলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালাচ্ছে তারা, এর মধ্যে আছে কাতারও। যুদ্ধাবস্থায় চলতি মাসের শুরুতে দেশের সব ধরনের ফুটবল বন্ধ ঘোষণা করে কাতার। তখন থেকে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফিনালিসিমা ম্যাচটি নিয়ে শঙ্কা ক্রমেই বাড়তে থাকে। কাতারের আয়োজক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত বাতিলের সিদ্ধান্তই নিল উয়েফা। ম্যাচটি আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প পথে হাঁটার চেষ্টা চালিয়েছিল উয়েফা। কিন্তু তাদের সেসব প্রস্তাবে রাজি হয়নি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। উয়েফার পক্ষ থেকে প্রথমে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, দুই দলের দর্শকদের সমান সুযোগ দিয়ে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ম্যাচটি আয়োজন করার। দ্বিতীয় বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয় দুই লেগের লড়াই; প্রথমটি আগামী ২৭ মার্চ বের্নাবেউয়ে এবং দ্বিতীয়টি বুয়েন্স এইরেসে পরবর্তী ইউরো ও কোপা আমেরিকার আগে কোনো একটি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে। দুটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করে আর্জেন্টিনা। উয়েফা জানায়, বিশ্বকাপের পর ম্যাচটি খেলার প্রস্তাব দেয় আর্জেন্টিনা, কিন্তু তখন স্পেনের কোনো ফাঁকা সূচি নেই। তাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিলের পথেই হাঁটলে হলো উয়েফাকে। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ২০২২ সালের ফিনালিসিমা হয়। সেখানে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।












