আরাকান আর্মির হাতে আটকা ৫১ জনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে

মতবিনিময়কালে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে সব ধরনের অপতৎরতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আহত ও অসহায় কিছু রোহিঙ্গার অবস্থা দেখে মানবিকতার খাতিরে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করছি। মাদক ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিবি রামু সেক্টর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আরাকান আর্মির সাথে আমাদের সাথে কোনো ফরমাল রিলেশন নেই। শুধুমাত্র ওয়ার্কিং রিলেশন রয়েছে। তারা সীমা অতিক্রম করলে আমরা বসে থাকবো না। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো তৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না তাদের। মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে, আরাকান আর্মিরা এখন সেখানে অবস্থান করছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তাদের সাথে কথা বলা যেতে পারে।’ আরাকান আর্মি কর্তৃক বাংলাদেশি জেলে অপহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আমাদের জেলেরা ভুলক্রমে নাফনদীতে সীমা অতিক্রম করলে আরাকান আর্মি তাদের ধরে নিয়ে যায়। এটা অপহরণ নয়। এখানে চিহ্নিত কোনো সীমা না থাকায় এগুলো দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ পর্যন্ত ৫১ জনকে নিয়ে গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।

জেলেদের সতর্ক করে তিনি বলেন, তারা যেন নাফনদীর পানি সীমা অতিক্রম না করে। কিছু দিন নাফনদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছিল, তবে এখন প্রশাসন সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

অস্ত্র আসার সুযোগ আছে ও অস্ত্র আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজিবির মূল কাজই হলো অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক চোরাচালান রোধ করা। শুধু রোহিঙ্গা নয়, এতে অনেক বাংলাদেশীও সম্পৃক্ত রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সেক্টর কমান্ডার বলেন, সীমান্তের ওপারে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে এমন সংবাদ আমরা শুনে থাকি, কিন্তু জোরালো কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে সীমান্তে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আহত ও অসহায় কিছু রোহিঙ্গার অবস্থা দেখে মানবিকতার খাতিরে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করছি। মাদক ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়নি : আইএসপিআর
পরবর্তী নিবন্ধদেড় বছরে ১ কোটি চাকরি সৃষ্টিতে বিএনপির প্রস্তুতি রয়েছে : খসরু