আরবান আলী সওদাগরের একনিষ্ঠতা সততা দানশীলতা কঠোর পরিশ্রম একক প্রচেষ্টা এবং আল্লাহ সুবাহানা তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে তিনি নিজেকে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে দারিদ্র্যের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মাত্র একটি আধুলি নিয়ে বার্মায় চলে যান। আরবান আলী সওদাগর ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বার্মায় এক উল্লেখযোগ্য চাটগাঁইয়া ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী, যিনি সেখানে একটি বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মূলত আকিয়াবকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করতেন, যা ব্রিটিশ বার্মার সাথে চট্টগ্রাম এবং বঙ্গোপসাগরের সংযোগকারী একটি প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। আরবান আলী ব্রিটিশ বার্মার আরাকান বিভাগের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী আকিয়াবের একজন প্রধান বণিক ছিলেন। তিনি ধান এবং কাঠ রপ্তানিতে বিশেষায়িত ছিলেন। তিনি চাটগাঁইয়া বণিকদের একটি অভিজাত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বার্মার উর্বর সমভূমি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে পণ্য সরবরাহের শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করতেন। এই বণিকদের নিজস্ব মালবাহী জাহাজের বহর ছিল। আকিয়াবে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যা ‘আরবান আলী সওদাগর মসজিদ’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে আরবান আলী সওদাগর চট্টগ্রাম ও বার্মার মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্যের একজন দিকপাল ছিলেন, বিশেষ করে স্টিমশিপ (বাষ্পীয় জাহাজ) শিল্পে তাঁর নেতৃত্বের জন্য তিনি সুপরিচিত। বেঙ্গল বার্মা স্টিম নেভিগেশন কোম্পানিতে আরবান আলী বেঙ্গল বার্মা স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি লিমিটেডের একজন প্রভাবশালী পরিচালক ছিলেন। বেঙ্গল বার্মা স্টিম নেভিগেশন ছিল একটি প্রধান দেশীয় উদ্যোগ যা ব্রিটিশ জাহাজ শিল্পের একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি সামুদ্রিক খাতে ‘স্বদেশী’ বা স্বনির্ভরতার প্রতীক ছিল। তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানিটি বেশ কিছু স্টিমশিপ পরিচালনা করত যা চট্টগ্রাম ও আকিয়াব বন্দরের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। ১৯৪০–এর দশকের ঐতিহাসিক নথি ও চিঠিপত্রে তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে একজন ‘লঞ্চ মালিক’এবং জমিদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, ব্রিটিশ বার্মায় আরবান আলী সওদাগরের জমি সংক্রান্ত রেকর্ডগুলো তাঁকে একজন সামুদ্রিক বণিক থেকে এক বিশাল জমিদারে পরিণত হওয়ার চিত্র তুলে ধরে। ১৯৩৭ সালের আগে ব্রিটিশ বার্মায় আরবান আলী শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, বরং একজন প্রভাবশালী জমিদার হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। তাঁর ভূসম্পত্তি মূলত আকিয়াব এবং কালাদান নদীর অববাহিকায় বিস্তৃত ছিল। তিনি বার্মা এবং চট্টগ্রাম উভয় স্থানেই বেশ কিছু মাদ্রাসা ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামে তিনি আরবানীয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। রোসাংগিরি হাই স্কুলের তিনি প্রথম মুসলিম এবং মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডোনার সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা এবং হাটহাজারীর চারিয়া মাদ্রাসার অন্যতম দাতা সদস্য।












