চট্টগ্রাম–৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের উদ্দেশ্যে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেছেন, উনি (সুফিয়ান) বলছেন–উনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন, আর আমি আজকে এসে রাজনীতিতে কী দিতে পারব। আরে উনি ৪০ বছরে না একটা চাকরি করছেন, না একটা ব্যবসা করছেন, উনি চলেন কেমনে? উনার ইনকাম কী? আমি তো ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ডা. এ কে এম ফজলুল হক। নগরের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, উনি (সুফিয়ান) বলছেন আমি বেশিরভাগ সময় আমেরিকায় থাকি। আসলে আমি বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশেই থাকি। আমি বিএমএ’র তিনবার ইলেক্টেড ট্রেজারার ছিলাম এবং আমাদের বিএম ভবন ট্রাস্টের আমি ফাউন্ডার ম্যানেজিং ট্রাস্টি। আমি স্টুডেন্ট লাইফ শেষ করে চার বছর ইরানে চাকরি করেছি। আমার কন্টাক্ট ছিল ১০ বছরের। কিন্তু আমি প্রতিবছর ছুটিতে আসতাম। কিন্তু চার বছর পরে এসে আমি আর যাই নাই। এখানে দেখলাম, স্বাস্থ্যসেবা অপ্রতুল, মানুষকে একটা এনজিওগ্রাম করার জন্য ইন্ডিয়া যেতে হয়, ঢাকা যেতে হয়। তো ইত্যাদি দেখে আমি দেশে থেকে গেছি। যেহেতু আমি ডাক্তার, সেজন্য আমি পেশাজীবীতেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহানগরের কোনো আমির বা সেক্রেটারি এই ধরনের কোন পজিশন বা পেশাজীবী রাজনীতিবিদ ছিলাম না। পেশাজীবী ছিলাম। কিন্তু রাজনীতি আমার পেশা ছিল না। সেজন্য হয়তো আমার নামে মামলা হয় নাই।
তিনি বলেন, যেহেতু আমি পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ নই, সেজন্য আমার নামে মামলা হয় নাই। আর আমি ভালো মানুষ, এটা প্রশাসনের কনফিডেন্স ছিল সেজন্য হয় নাই। আরেক কারণ–ওদেরও তো একটা সিম্প্যাথি আছে যে, এই মানুষটা নগরীতে এভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা তাদের ক্ষমতার প্রতি আমি আশঙ্কিত কোন ব্যক্তি নয়, সেজন্য ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে আমাকে তারা এটা কৃতজ্ঞতার স্বরূপ দেয় নাই। ডা. একেএম ফজলুল হক বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, কোতোয়ালী থানা সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদ উপস্থিত ছিলেন।











