আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৩ মার্চ, ২০২৬ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকে পড়েছে। গত শুক্রবার জাহাজটি পণ্য নিয়ে ওই বন্দরে পৌঁছে। শনিবার রাতে জাহাজটি থেকে মাত্র ১শ’ গজ দূরে মিসাইল হামলা হয়েছে। তবে এতে জাহাজ কিংবা নাবিকদের কোন ক্ষতি হয়নি। জাহাজটি থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের সবাই নিরাপদে এবং সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।

বিএসসি জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটিকে বন্দরটির ১০ নম্বর জেটিতে বার্থিং দিয়ে পণ্য খালাস শুরু করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে জাহাজটির পণ্য খালাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল থেকে জাহাজটির পণ্য খালাস শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমডোর মাহমুদুল মালেক।

দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে গতরাতে তিনি বলেন, একটু আগে পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা জুম মিটিং করেছি, ভিডিও কলে কথা বলছি। মাননীয় মন্ত্রী সাহেবও সার্বক্ষনিকভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, এমভি বাংলার জয়যাত্রা জাহাজে ৩১ জন নাবিকক্রু রয়েছেন। সবাইকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ একটু আগে দুইশ’ টন পানি নেয়া হয়েছে। আগের ৮০টন পানি ছিল। ফলে জাহাজে পানিখাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নাবিক এবং ক্রুদের দৈনিক পাঁচ ডলার করে বাড়তি অর্থ ইনসেনটিভ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদেরকে সব ধরণের সহায়তা এবং নির্দেশনা প্রদান করছি।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজটি পণ্য খালাস হলেও এখন ওই বন্দর থেকে বের হতে পারবে না। কেননা ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এটি চালু না করার পর্যন্ত জাহাজটিকে ওই বন্দরে অবস্থান করতে হবে। তবে আমাদের জাহাজ জেটিতে অবস্থান করায় নিরাপদে আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ না করুন, কোন অঘটন ঘটলেও আমাদের নাবিকেরা হেঁটে বের হয়ে আসতে পারবেন। বহির্নোঙরে থাকলে এই সুবিধা পাওয়া যেতো না।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, এমভি বাংলার জয়যাত্রা ছাড়াও বিএসসির মালিকানাধীন আরও ৬টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিয়েরালিওন, পাকিস্তান, সেনেগাল ও রাশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে রয়েছে। প্রত্যেকটি জাহাজই নিরাপদে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত শনিবার রাতে এমভি বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটির মাত্র ১০০ গজ দূরে ইরানের মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মিসাইল হামলায় জাহাজে অবস্থান করা নাবিকদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এ ঘটনার পর নাবিকক্রুদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ভয়আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৩১ নাবিকক্রু নিরাপদে ফিরতে পারবেন কিনা। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে নাবিকদের সাথে পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগের জন্য বিএসসি একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বলেও জানান কমডোর মাহমুদুল মালেক। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিএসসি ওই জাহাজটির বীমা দাবির পুরোটাই পেয়েছে বলেও সূত্র জানায়।

এমভি বাংলার জয়যাত্রা ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয়। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এঙপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটি বিদেশী একটি কোম্পানি ভাড়ায় নিয়ে পরিচালনা করছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকোতোয়ালীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৪
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে গ্যাস সেক্টরে শঙ্কা