শিক্ষার হার বাড়লেও উচ্চশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও নিরক্ষর মানুষের আচরণে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না। শিক্ষা আমাদের রুচি ও মানসিকতা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। সমাজের সব মানুষের লক্ষ্য থাকে অর্থ ও ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাওয়ার। বৈধ না অবৈধ এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে যে কোনোভাবে অর্থ কিংবা ক্ষমতা অর্জনই বর্তমান সমাজে সফলতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আমাদের সমাজ যেন এক ধরনের মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত। আমাদের জীবনাচরণ থেকে সেবা শব্দটি যেন ওঠে গেছে। সেবার বদলে ঘুষের সংস্কৃতি প্রচলিত হয়ে ওঠেছে। অর্থ ও সম্পদের নেশায় ঘুষ প্রথা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এ অবৈধ অর্থ–সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষ দিনদিন অমানুষে পরিণত হচ্ছে। অর্থ ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা মানুষের সাথে হীন আচরণ করে, এমনকি তারা অসামাজিক ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
কিন্তু তারা জানে না, অর্থ ও ক্ষমতা দীর্ঘদিন থাকে না। এক সময় যখন এসব হারিয়ে যায়, তখন কেউ আর তাদের পাশে না। প্রতিটি ধর্মেই ভালোবাসার কথা আছে। ত্যাগ ও সৎ উপার্জনের কথা আছে। আছে লোভ ও অহংকার পরিত্যাগের কথা। শুধু ধর্ম ধর্ম বলে চিৎকার করলে হবে না। ধর্মচর্চা করার চেয়ে ধর্মান্ধতা ও অজ্ঞতা দূর করা খুব বেশি প্রয়োজন। আর শিক্ষা যদি মানবিকতা, সেবা ও কল্যাণের পথে পরিচালিত না হয়ে মানুষকে হয়রানি ও জিম্মি করার কাজে লাগায় তবে সেখানে উচ্চশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষের চিন্তা ও কর্মের কোনো ভেদাভেদ থাকে না।











