নগরের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করেছেন দল দুটির নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর দাবি, তাদের নির্বাচনী গণসংযোগে অতর্কিত হামলা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে তাদের ৭ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির দাবি, আমবাগানে অবস্থিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ অফিসে এসে ভাঙচুর ও সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে বহিরাগতরা। এসময় তারা প্রতিরোধ করেছেন। হামলাকারীরা জামায়াতের সদস্য কীনা তারা নিশ্চিত নন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। একে অপরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম–১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী আজাদীকে বলেন, আমাদের ভাইয়েরা গণসংযোগে বের হয়। মিছিল নিয়ে তাদের (বিএনপি) অফিস অতিক্রম করার সময় তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে হামলা করে। প্রথমে পাথর নিক্ষেপ করে। তখন আমাদের ভাইয়েরা ও কর্মীরা সরে যায়। পেছনে থাকা আমাদের ৭ জন ভাইকে শারীরিকভাবে মেরে লাঞ্ছিত করেছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে ফেলেছে। মিছিলের অংশ না থাকা সত্ত্বেও একজন টিচারকে জামায়াত করে বলে মাথা ফাটিয়ে গুরুতর আহত করে। গোলাম মর্তজুা মোরশেদ নামে একজনের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। মোট তিনজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

হেলালী বলেন, আমি কনসার্ন সব সংস্থাকে জানিয়েছি। আমরা প্রশাসনের উপর আস্থা রাখতে চাই। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। তবে ওনারা যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নেন তাহলে আমরাও অধৈর্য হয়ে যাব।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম–১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাইদ আল নোমানের অনুসারি ও নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এস কে খোদা তোতন আজাদীকে বলেন, আমাদের লোকজন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ–এর অফিসে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় টাইগারপাস এলাকা থেকে বহিরাগতরা মিছিল নিয়ে এসে অতির্কিতভাবে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং আমাদের লোকদের মারধর করে। তখন আমাদের লোকজন প্রতিরোধ করে। তখন দুইপক্ষে মারামারি হয়েছে। বহিরাগতরা এসে মারধর করায় তারাও বহিরাগতকে মারধর করে। বহিরাগতরা কারা সেটা আমাদের লোকজন জানতো না। এখন জামায়াত যদি দাবি করে তারা জামায়াত, তাহলে বসে সমাধান করা যাবে। তিনি বলেন, লোকাল জামায়াতের লোক হলে তো ওরা চিনত। লোকাল কেউ না হওয়ায় চিনতে পারেনি। এ বিষয়ে জানার জন্য খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।












