আমদানি বাড়লেও কমেনি খেজুরের দাম

এক সপ্তাহে বেড়েছে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

রমজানকে কেন্দ্র করে চলতি বছর খেজুর আমদানি বেড়েছে। আমদানি বাড়লেও দাম কমছে না। খেজুরের বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের ডিসেম্বরে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। শুল্ক কমলেও সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে খেজুরের বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। উল্টো বেড়েছে দাম। গত এক সপ্তাহে মানভেদে কেজিতে খেজুরের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।

আমদানিকারকরা বলছেন, সাধারণত অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। আর আমাদের দেশে খেজুরের বাজার শতভাগ আমদানি নির্ভর। এ বছর আমদানি বাড়ার সাথে গত বছরের অবিক্রিত খেজুরও রয়েছে। তবে চাহিদার বাড়ার কারণে কয়েক ক্যাটাগরির খেজুরের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে ভোক্তাদের দাবি, রমজানের খেজুরের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দাম বৃদ্ধি করেন।

গতকাল ফলমণ্ডি ও খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে সৌদি, ইরান, মিশর, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও দুবাই থেকে আমদানিকৃত জাহিদি, সায়েদি, ফরিদি, সাফায়ি, রশিদি, মাশরুখ, মাবরুর, নাগাল, কুদরি, আজওয়া, মেদজুল, মরিয়ম, দাব্বাস, সুক্কারিসহ বিভিন্ন ধরনের খেজুর রয়েছে। বর্তমানে বাজারে নাগাল ব্র্যান্ডের পাঁচ কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, তিউনিসিয়ার টেটকো ফরিদি পাঁচ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া সৌদি আরবের পাঁচ কেজি মাশরুখ খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। মাশরুখ ভিআইপি বিক্রি হয়েছে পাঁচ কেজি দুই হাজার ১০০ টাকায়। ইরানি মরিয়ম খেজুর পাঁচ কেজি বিক্রি হচ্ছে চার হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, সৌদি আরবের মাবরুর খেজুর সাড়ে ৪ হাজর থেকে ৫ হাজার, ৫ কেজি সৌদি আজওয়া খেজুর ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, মিশরের মেদজুল খেজুর পাঁচ কেজি ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা, ইরাকি জাহিদি খেজুর ১০ কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া বস্তা খেজুরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫২০২৬ অর্থবছরের পহেলা জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৭৬৮ টন। গত ২০২৪২০২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৫৩ হাজার টন, ২০২৩২০২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ২৫ হাজার ৮৫ টন, ২০২২২০২৩ অর্থবছরে খেজুর আমদানি হয়েছে ৮১ হাজার ৬৮৪ টন এবং ২০২১২০২২ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৮৮ হাজার ৬০২ টন।

খেজুর আমদানিকারকরা বলছেন, শুধু রমজান মাসে সারাদেশে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা থাকে। এক সময় রমজানের বাইরে খেজুরের না থাকলেও এখন সারা বছর খেজুরের চাহিদা থাকে। তবে কম দামী খেজুরের সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ে রমজান মাসেই।

খাতুনগঞ্জের খেজুর ব্যবসায়ী মেসার্স আল মদিনার স্বত্বাধিকারী এহসান উল্লাহ জাহেদী আজাদীকে বলেন, নির্বাচন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনের কারণে যথাসময়ে অনেক খেজুর খালাস করতে পারেনি আমদানিকারকরা। তবে কয়েক ক্যাটাগরির খেজুরের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে জাহেদী খেজুর ও বস্তা খেজুরের দাম বেড়েছে। উচ্চ মূল্যের খেজুরের দাম খুব বেশি বাড়েনি।

চাক্তাইখাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, খেজুরের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। এ বছর পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি হয়েছে। খেজুরের দাম খুব বেশি বেড়েছে বলা যাবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোজায় স্কুল বন্ধ রাখতে হাই কোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত
পরবর্তী নিবন্ধপাইপলাইনে ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ দেড় মাস ধরে বন্ধ