আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর্যায়ে এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সহকারী কমিশনার আল ইমরান হোসেনকে অন্য দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এ উদ্যোগের কথা জানান। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, ভিডিও বিশ্লেষণে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও পরবর্তী দুদিনের ভিন্ন দুটি ঘটনায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ মিলেছে। এই কারণে তাকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই কর্মকর্তা এখন দেশে আছেন নাকি পলাতক, সে বিষয়ে ‘তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে’ কোনো মন্তব্য করতে চাননি চিফ প্রসিকিউটর।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আগামী ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণার দিন রেখেছে। সমপ্রতি চ্যানেল ২৪–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আবু সাঈদকে হত্যার দিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের একটি নতুন সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে আবু সাঈদকে যখন গুলি করা হয়, তার ঠিক উল্টোপাশেই সাদা হেলমেট পরিহিত ও লাঠি হাতে দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আল ইমরান হোসেন। মোবাইল ফোনের লোকেশন ও মেটাডেটা পর্যালোচনা করে ওই সময়ে ইমরানের উপস্থিতি চ্যানেলটিকে নিশ্চিত করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে ‘মারমুখী উপস্থিতি’ থাকা সত্ত্বেও প্রসিকিউশন তাকে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি করেনি এবং মামলাটিতে তাকে সাক্ষী করা হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।
২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ইমরান ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এসি ইমরানকে আসামি না করে সাক্ষী করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সমপ্রতি প্রধান কৌঁসুলি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল। প্রসিকিউশন সম্পর্কে ওঠা নানা বিতর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা যে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি করেছি, এই রিপোর্টে সব বিষয় আসবে। আমাদের কাছে যদি মনে হয় যে তাকে সাক্ষী না করলেও চলত, আসামিই করতে পারত, সেই জায়গাগুলো আমরা হয়তো অ্যাড্রেস করব।












