মীরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অর্ধনির্মিত আবাসিক ভবনের কাজ দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি মাতৃসেবা। বিশেষ করে অফিস সময়ের বাইরে কোনো প্রসূতি মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকাকে বাসা থেকে ডেকে এনে সেবা দিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন মা ও শিশু রোগী সেবা নিতে আসছেন। অফিস সময়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সেবা প্রদান করা হলেও সমস্যা দেখা দেয় অফিস শেষ হওয়ার পর। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মৌসুমি বড়ুয়া দায়িত্ব শেষে বাসায় চলে গেলে কোনো প্রসূতির জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে এমএলএসএস বা সহকারীদের তত্ত্বাবধানে তাকে বাসা থেকে ডেকে এনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা দিতে হয়। সেবা শেষে আবার তাদের সহযোগিতায় বাসায় পৌঁছে দিতে হয়।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন তিনতলা আবাসিক ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল প্রায় দেড় বছর আগে। তবে গত ৫ আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গা ঢাকা দেওয়ায় ভবনটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, ভবনটির আস্তরণ ও দরজা–জানালার কাজ সম্পন্ন হলে সেখানে অন্তত ভিজিটর ও সহকারীরা বসবাস করতে পারতেন, যা রাতের জরুরি সেবায় বড় সহায়ক হতো।
এ বিষয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মৌসুমি বড়ুয়া বলেন, আবাসিক ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায়ই রাতে বাসা থেকে এসে প্রসূতি মায়েদের সেবা দিচ্ছি। তিনি জানান, হিঙ্গুলী এলাকা উপজেলার অন্যতম জনবহুল এলাকা হলেও এখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। চারজন পরিদর্শিকার পদের বিপরীতে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগী মাসুদা আক্তার (৪৫) বলেন, আমি সর্দি–কাশির সমস্যায় এসেছিলাম। ডাক্তার ওষুধ লিখে দিলেও এখান থেকে কোনো ওষুধ পাইনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শিরিনা আক্তার রুহিনা জানান, ১০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ২০২২ সালে আধুনিকায়ন করা হলেও আবাসিক সমস্যার কারণে সেবা দিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, বিসিএসের মাধ্যমে এটি আমার প্রথম পোস্টিং। কিন্তু এখনো এখানে একজন আয়া নেই। পরিদর্শিকার সহকারীসহ আমাদের অনেক সময় নিজেরাই পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয়।
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত মোদক বলেন, হিঙ্গুলি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের আয়া সংকট ও আবাসিক সমস্যার বিষয়ে আমরা একাধিকবার জেলা কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানান, জেলা থেকে সমপ্রতি অবহিত করা হয়েছে যে পূর্বের ঠিকাদার কাজ না করায় নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি শিগগিরই কাজ শুরু করবেন। পাশাপাশি আয়া ও অন্যান্য স্টাফ নিয়োগের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।












