আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণকারি পুলিশ, সহকারি প্রিজাইডিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা কোন দলের প্রতি ভালবাসা দেখাতে পারবেননা। আপনাদের কোন দলের প্রতি ভালবাসা থাকতেই পারে, যদি কোন দলের হয়ে ভালবাসা দেখান দেখান তাহলে আপনাদের বিরদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের যৌথ আয়োজনে আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, একটি নিরপেক্ষ,অবাধ ও আন্তজার্তিক মানের নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে চাইলে দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। এ নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ বির্নিমানে রুপরেখার আয়োজনের নির্বাচন। দেশের মহাকাব্য রচনা করতে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক বাহিনীর সদস্যদেরকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্থাপন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা একটি সুষ্ট নির্বাচন উপহার দিতে জানে সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে, সেটি দেখিয়ে দিতে হবে জাতিকে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আনসার বাহিনীর সদস্যকে অ্যাপস দেওয়া আছে। কোন কিছু লুকানোর সুযোগ নেই, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেই বাংলাদেশে আমি-আপনি ও আপনার সন্তান নিরাপদে থাকবে। আমরা কারো সাথে গোলামি করবোনা সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাষ্ট্র আপনার সন্তানকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আপনাদের কেন্দ্রে মোবাইল টিম পৌঁছে যাবে। রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চটা দিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। ভোট কেন্দ্র পাহারা দিলে হবেনা, ভোট কেন্দ্র হবে উৎসবমূখর পরিবেশে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জাতির কাঙ্খিত যে লক্ষ্য ও প্রত্যাশা সকল প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকটা বাহিনী শক্তিশালি হিসেবে কাজ করবে।আপনার পেশাকে কলংকিত করবেন না। গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ শান্তি উপায়ে পরিচালিত হবে এবারের নির্বাচনে।পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ মোতায়েন থাকবে। নিরাপদে নির্ভয়ে ভোট দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনকে সুন্দর করার জন্য প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনে পেশিশক্তি ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক গোলাম মঈনুদ্দিন হাসান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২৬ ইস্ট রেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর মোঃ আসিফুর রহমান পিএসসি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো শরীফ উদ্দিন,জেলা আনসার কমান্ডার ফরিদা পারভিন সুলতানা, জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান সিদ্দিকি, সহকারি কমিশনার, আচরণ বিধির প্রতিপালনের ম্যাজিস্ট্রেট সুমন সাহা, উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মং এছেন, লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল, উপজেলা নির্বাচন অফিসার রিকল চাকমাসহ অন্যন্যা কর্মকর্তারা ও প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লোহাগাড়া উপজেলা সদরে আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে বুধবার দিনব্যাপী পোলিং, সহকারি প্রিজাইডিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ১হাজার ৫শ জন কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।












