আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য– ‘নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ, এগিয়ে নিতে হবে বিনিয়োগ’। প্রতিপাদ্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে জাতিসংঘ বলছে, কোভিড মহামারী এবং সংঘাতের কারণে ২০২০ সাল থেকে আরও ৭৫ মিলিয়ন মানুষ গুরুতর দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের সীমারেখায় থাকা ৩৪২ মিলিয়নেরও বেশি নারীর ভাগ্য পরিবর্তন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতাহীনতা মোকাবিলায় নজর দেওয়ার জন্যই এবারের নারী দিবসের থিম নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধেও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়। অথচ নারীদের জন্য সঠিক বিনিয়োগ উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ‘সারা বিশ্বের কল্যাণকর যাহা কিছু মহীয়ান/ পুরুষের সাথে সাথে আছে নারীদের অবদান/ করিছে সংগ্রাম দেশহিতে অস্ত্র ধরি নিজহাতে/ সমান তালে যুঝিছে নারী পুরুষের সাথে সাথে।’
প্রতিবছর নারী দিবস বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে। সর্বপ্রথম ১৯১৪ সালের ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই দিনটিকে স্বীকৃতি দিয়ে পালন করা শুরু করে। বাংলাদেশ হাজার ১৯৭১ সালের দিকে নারী দিবস পালন করা হয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘ স্বীকৃতি প্রদানের পর প্রতি বছর ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পুরো পৃথিবীতে পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে নারীদের মর্যাদা ও তাদের প্রতি মানুষের যে চিন্তাভাবনা তা পরিবর্তনের মূল লক্ষ্যে এই দিনটি পালন করা হয়। কারণ আমাদের চারপাশে নারীদের অবদান রয়েছে তার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো নারীদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে আমাদের নারীসমাজ। দেশের নারী–পুরুষ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা–দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত–সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
বর্তমান যুগকে বলা হয় গণতান্ত্রিক যুগ, সমতার যুগ। কিন্তু এ সময়েও নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারীরা এখন কাজের জন্য ঘরের বাইরে যাচ্ছে। জ্ঞান–বিজ্ঞান শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, শিল্প–সাহিত্য ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই নারীর পদচারণা লক্ষণীয়। কিন্তু তারপরও নারীরা এখনও বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। পরিবারের মধ্যে আপনজন কর্তৃক নারীর নির্যাতিত হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। কর্মস্থল, পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থায়, পথেঘাটে নারীরা বিভিন্নভাবে ইভটিজিং এবং যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। নারী দিবস উদযাপন করে এসব অবস্থার উন্নতি করা না গেলেও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নারী নির্যাতন অনেক হ্রাস পেয়েছে। নারীমুক্তি, নারীর স্বাধীনতা, সমানাধিকার আত্মমর্যাদার লড়াইকে সামনে এগিয়ে নেবার শপথ নিয়েই সারা বিশ্বে মানুষ আজ নারী দিবস পালন করবে। নারী মুক্তি অর্থ সমাজেরই মুক্তি। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার অন্যতম মাপকাঠি হলো নারী সমাজের উন্নতি। বর্তমানে বাংলাদেশের নারীর অবস্থান অনেকটা এগিয়ে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নারী ক্ষমতায়নে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে।












