জুলাই আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানানো ২৫ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেন বৈষম্যবিরোধীদের লিগ্যাল সেলের সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ।
এ ব্যবসায়ীদের মধ্যে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও রয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের মধ্যে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সালমান। খবর বিডিনিউজের।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ওই বৈঠকের ছবি দেখিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, আমরা আজকে অভিযোগ দায়ের করেছি। এই ছবি আমাদের কাছে আছে, এই ছবির ভেতর থেকে স্পষ্ট, এদের চেহারাগুলো দেখা যাচ্ছে। আমরা এর মধ্যে ২৫ জন ব্যবসায়ীর নাম আইডেন্টিফাই করেছি এবং তাদের নামে অভিযোগ করেছি এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইশর অধিক রয়েছে। আমরা প্রসিকিউশনে বলে দিয়েছি, আজকের মাঝেই যাতে তদন্ত সংস্থার কাছে এটি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং অতি দ্রুত যাতে বিচারিক যে কার্যক্রম, তদন্ত কার্যক্রম– সেটি শুরু করার মধ্য দিয়ে চার্জশিট প্রণয়ন করা হয় এবং অ্যাজ আরলি অ্যাজ পসিবল বিচারিক যে কার্যক্রম সেটি যেন শুরু করা হয়।
তালিকায় যাদের নাম আছে : ১. সালমান ফজলুর রহমান (বেঙ্মিকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) ২. মাহবুব আলম (এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি) ৩. এস এম মান্নান কচি (বিজিএমইএ এর তৎকালীন সভাপতি) ৪. মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান) ৫. নজরুল ইসলাম মজুমদার (নাসা গ্রুপ ও এঙ্মি ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান) ৬. মো. হেলাল উদ্দিন (দোকান মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি) ৭. মো. হাতেম (বিকেএমইএ এর তৎকালীন নির্বাহী সভাপতি) ৮. নাসিম মঞ্জুর (এপেঙ গ্রুপের চেয়ারম্যান) ৯. আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম (বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান) ১০. মো. সানি (প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী) ১১. এ কে আজাদ (হা মীম গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক) ১২. আনোয়ার পারভেজ (বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার–উল আলম চৌধুরী) ১৩. আব্দুল মোতালেব (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক) ১৪.বজলুর রহমান (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক) ১৫. প্রীতি চাকমা (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী) ১৬. হাবিবুল্লাহ ডন (বারভিডার সভাপতি) ১৭. জহিরুল ইসলাম জহির (বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব) ১৮. মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান; এ নামটি দুবার আছে) ১৯. বিএম ইউসুফ আলী (বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট) ২০. মোস্তফা কামাল (মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান) ২১. মোহাম্মদ আলী খোকন (ম্যাকসন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান) ২২. আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ (নর্দান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান) ২৩. ওবায়দুল করিম (ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান) ২৪. আ হ ম মুস্তফা কামাল (সাবেক অর্থমন্ত্রী, লোটাস কামাল গ্রুপের চেয়ারম্যান)।
রিফাত বলেন, এই আওয়ামী টাকায় এখনো আমার ভাই শরিফ হোসেন বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই আওয়ামী লীগের টাকায় এখনো আমার বোনদেরকে অনলাইনে এতটা বিচ্ছিরিভাবে হ্যারাসমেন্ট করা হয়, লাঞ্ছিত করা হয় যে তারা সুইসাইড করতে বাধ্য হচ্ছে। ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিপ্লবী সময়ে আমরা কিন্তু বাংলাদেশের আপামর সাধারণ জনগণকে কমান্ড দিয়েছিলাম– আপনারা কোনো প্রকার সহিংসতার দিকে যাবেন না। আপনারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সেগুলোকে রক্ষা করুন। আমরা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগী ছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম, সকল ভুলভ্রান্তি হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে এই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী এনেবলারসহ গোটা বাংলাদেশের যেখানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে, সেগুলোও পলায়ন করেছে। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, এগুলো আসলে মোটেও পলায়ন করেনি; বরঞ্চ ঘাপটি মেরে বসে আছে সুযোগ পেলেই চারা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলননের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, লিগ্যাল সেলের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, নারী সেলের সম্পাদক নূপুর আক্তার নোভা, লিগ্যাল সেলের ইশতিয়াক হোসেন ও আব্দুর রহমান বাকি।











