আনোয়ারায় হুমকিতে ৩ ইউনিয়নের বোরো ও রবিশস্যের আবাদ

ইছামতিতে পানি সংকট

আনোয়ারা প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

আনোয়ারায় ইছামতি খালের নোয়ার রাস্তা-কৈখাইন এলাকার স্লুইচ গেট দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখায় তিন ইউনিয়নের (আনোয়ারা, বারখাইন ও বরুমচড়া) কয়েকশ’ একর জমি শুকিয়ে পড়েছে। এতে হুমকিতে পড়েছে বোরো চাষ ও রবিশস্যের আবাদ। এতে কয়েক হাজার কৃষক পরিবারের চোখে মুখে হতাশা নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গতকাল দুপুরে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আনোয়ারা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা য়ায়, আনোয়ারায় বোরো চাষ ও শীতকালীন রবি শস্য লোনা পানির প্রভাবমুক্ত রাখতে গত বছর সাঙ্গু নদের ভরা শক্সখ খালের মুখে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম এলিভেটর রাবার ড্রাম প্রকল্প উদ্বোধন করা হয় এবং চলতি বছর তার শত ভাগ সুফল পেতে শুরু করে স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলো। যার ফলে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও চলতি বোরো মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে লোনা পানি শক্সখ নদে ডুকে পড়লে যথাসময়ে ভরা শঙ্খ খালে নির্মিত হাইড্রলিক এলিভেটর রাবার ড্রাম বাঁধ বন্ধ করে আনোয়ারা ইছামতি খালে লবণ পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কর্ণফুলী নদী থেকে শিকলবাহা খাল হয়ে নোয়া রাস্তা-কোদলা -ইছামতি আনোয়ারা খালের মিঠা পানি দিয়ে আনোয়ারা, চাতরী, পরৈকোড়া, বারখাইন ও বরুমচড়া ইউনিয়নের কয়েকশত একর জমিতে শীতকালীন রবি শস্য ও বোরো চাষের সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নোয়া রাস্তা কোদালা খালের মুখে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় আনোয়ারায় ইছামতি খালে পানি চলাচলের একমাত্র ভরসা স্লুইচ গেট। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী স্লুইচ গেটে পানি চলাচল বন্ধ করে দিলে খালে পানি সংকট দেখা দেয় এবং সেচ কাজে সংকট দেখা দেয়।
বর্তমানে শোলকাটা, বোয়ালগাঁও, খীলপাড়া, ধানপুরা, শিলাইগড়া, ঝিওরি, বরুমচড়া, নলদিয়া, পদ্মাপাড়া, তৈলারদ্বীপসহ এ অঞ্চলের রবিশস্য ও বোরো চাষের চাহিদা অনুপাতে সেচ দিতে না পারায় ধানের মাঠ ও ফসলি জমি শুকিয়ে ফলন ব্যাহত হচ্ছে।
বরুমচড়ার সেচ পাম্প ব্যবহারকারী জাফর আহমদের অভিযোগ গত ১৫ দিনের বেশি খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাঠে পানি দেয়া যাচ্ছে না। ফলে ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, স্থানীয় কিছু লোক মাছ ধরতে স্লুইচ গেট দিয়ে খালে পানি আসা বন্ধ করে দিয়েছে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, নোয়ারাস্তা -কৈখাইন স্লুইচ গেট দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় খালে পানি সংকট দেখা দিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্লুচ গেট চালুর প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে গতকাল উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমীরসরাই ও বারইয়াহাট পৌরসভায় ৭ কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ
পরবর্তী নিবন্ধফরিদপুরের দুই ভাইয়ের পৌনে ৬ হাজার বিঘা জমি, ৫৫ গাড়ি