তরুণরা একটি জাতির শক্তি, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক তরুণ ভেতরে ভেতরে এক নীরব মানসিক চাপে ভুগছে। সাফল্যের সংকীর্ণ মানদণ্ড, পরিবার ও সমাজের অতিরিক্ত প্রত্যাশা, এবং অন্যের সঙ্গে তুলনা তাদের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করে এবং হতাশার জন্ম দেয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা তাদের মনে অস্থিরতা তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সেখানে অন্যের সাফল্য দেখে অনেকেই নিজেকে ব্যর্থ মনে করে, অথচ প্রত্যেক মানুষের জীবনের পথ ও সময় ভিন্ন। পাশাপাশি, আমাদের সমাজে মানসিক কষ্ট নিয়ে খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি, ফলে অনেক তরুণ নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই চেপে রাখে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে আরও সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে নিজেদের কথা বলতে পারে। তরুণদেরও বুঝতে হবে ব্যর্থতা জীবনের স্বাভাবিক অংশ; ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতাই এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি।
তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অপরিহার্য। তাই তাদের এই নীরব সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।














